দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। দিল্লিতে সম্প্রতি শুরু হওয়া SIR-এ ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকার কারণে নোটিস পেয়েছেন দেশের একাধিক পরিচিত রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, শীর্ষ আমলা এবং সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিরা। কিন্তু তাঁদের নিয়ে দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ‘VIP/marked electors’ শব্দ ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করেই প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
দিল্লির SIR-এ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়, সিবিআই ডিরেক্টর প্রবীণ সুদ, নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির ভোটার তথ্য যাচাইয়ের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও নোটিস পাওয়া ভোটারদের তালিকায় রয়েছেন।
ভোটারদের তথ্যের মধ্যে নাম, বয়স, পরিবারের তথ্য বা আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্য না মেলার মতো বিভিন্ন ভুল থাকার কারণে এই নোটিস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অশোক কুমার জানিয়েছেন, এটি মূলত তথ্য যাচাই ও সংশোধনের জন্য একটি সিস্টেম-জেনারেটেড প্রক্রিয়া। এসআইআর এর ফাইনাল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগও দেওয়া হবে। তা যদি সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারে তাহলে তারা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবে।
জানা গেছে, দিল্লির মুখ্য নির্বাচনের অধিকারী তরফ থেকে, মোট দিল্লির প্রায় ৩১ লক্ষ ভোটারকে এরকম নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এও জানা যায়, যে সমস্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বা শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ভোটার তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (ERO) একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করছেন। সেই তালিকা অনুযায়ী বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLO) সরাসরি তাঁদের নিবন্ধিত স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে এবং বাড়িতে বসেই নথিপত্র সশরীরে যাচাই করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
দিল্লির চলমান বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা পুনরীক্ষণ (SIR) প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নেতা, ভিআইপি বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সশরীরে শুনানিকেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভিআইপিরাই নন, সাধারণ ভোটারদের জন্যও নির্বাচন কমিশন বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। বিজ্ঞপ্তিতে থাকা QR কোড স্ক্যান করে অনলাইনেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করে দেওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রেও BLO-রা বাড়িতে গিয়ে নথির সত্যতা অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করে নিতে পারছেন, যার ফলে শুনানিকেন্দ্রে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা অনেকটাই কমে যাচ্ছে।
দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) অশোক কুমার স্পষ্ট করে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই নোটিসগুলো মূলত ডেটা বা তথ্য সংশোধনের জন্য একটি সিস্টেম-জেনারেটেড প্রক্রিয়া। নোটিস পাওয়ার অর্থ এই নয় যে কারো নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে।
তবে বিতর্ক তৈরি হয়েছে অন্য জায়গায়। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং তাঁদের নিয়ে আলাদা করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ‘VIP/marked electors’ উল্লেখ করা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন খাড়গে। তাঁর প্রশ্ন, ভোটার হিসেবে সকলের অধিকার যখন সমান, তখন ভোটার তালিকায় আবার ‘VIP’ বলে আলাদা কোনও শ্রেণি থাকবে কেন?
খাড়গে বলেন, SIR-এর এই প্রক্রিয়ায় এখন বিজেপির বড় নেতারাও নোটিস পাচ্ছেন। লালকৃষ্ণ আদভানি, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, দিল্লির উপরাজ্যপাল, সাংসদ, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের নামও সেই তালিকায় রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, এত পরিচিত এবং নথিপত্র থাকা ব্যক্তিদের ভোটার তথ্যেও যদি ভুল ধরা পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী হতে পারে?
একই প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও। তাঁর বক্তব্য, দেশের পরিচিত নেতা, আমলা, ব্যবসায়ী, খেলোয়াড় বা অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভোটার তথ্যেও যদি নামের অমিল, পরিবারের তথ্য না মেলা বা পুরনো তালিকার সঙ্গে তথ্য না মেলার মতো সমস্যা দেখা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও বড় হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি নেই বা সরকারি দফতরে গিয়ে বারবার যোগাযোগ করার সুযোগ কম, তাঁদের কি হবে?
বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে যখন এই হেভিওয়েটদের নোটিস যাওয়া মাত্রই দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে তড়িঘড়ি একটি প্রেস নোট জারি করে শব্দ ব্যবহার কে নিয়ে।
কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে খাড়গে প্রশ্ন তোলেন, যখন ভোটার হিসেবে দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের অধিকার একেবারে সমান, তখন সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে ‘VIP ভোটারের’ কথা বলা হচ্ছে কেন? আমাদের সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের দেশে কি এখন তবে ভিআইপি ভোটার এবং সাধারণ ভোটারের আলাদা কোনো শ্রেণী তৈরি হচ্ছে? খাড়গের অভিযোগ, ভিআইপিদের নোটিস দিলে প্রেস রিলিজ জারি হয়, আর কোটি কোটি সাধারণ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় ভুগলে কমিশনের মুখে থাকে রহস্যজনক খামোশি এমনটাই অভিযোগ করলেন খাড়গে।

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
