ধর্মেন্দ্র প্রধানের পর আজ কি তবে ইস্তফা দেবেন জ্ঞানেশ? ককরোজ জনতা পার্টির ( CJP ) দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন মুম্বই থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
সিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, ২ অক্টোবর মুম্বই থেকে শুরু হবে আন্দোলন। পরে দেশের বিভিন্ন শহরে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যেই ৪০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন বলেও দাবি করেছে সিজেপি।
এর আগে জ্ঞানেশ কুমারকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল সিজেপি। সংগঠনের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে এবং তার জবাব দিতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে আজ ফের জোরালো হয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি।
এদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভও চলছে। দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানোর পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবিও তোলেন তিনি।
এর মধ্যেই সিজেপির আন্দোলনের ডাককে সমর্থন করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “জ্ঞানেশ না গেলে ২ অক্টোবর থেকে ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের মানুষ বিপুল সংখ্যায় রাস্তায় নামবে।” অর্থাৎ, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বইয়ে বড় আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আদিত্য।
জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে এনডিএর অন্দরেও ভিন্নসুর শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এলজেপি নেতা চিরাগ পাসোয়ান বলেন, মানুষের আস্থা বজায় রাখতে জ্ঞানেশ কুমারকেই তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলাতেও ফৌজদারি পদক্ষেপের দাবি করা হয়েছে। একতরফাভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদনও জানানো হয়েছে।
এখন নজর আজকের দিকে। সিজেপির দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে জ্ঞানেশ কুমার কোনও পদক্ষেপ করেন কি না, সেটাই দেখার। আর পদত্যাগ না হলে ২ অক্টোবর মুম্বই থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করার যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন করে জল্পনা।
সিজেপির তিন দফা দাবি কী?
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি আরও কয়েকটি দাবি জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির প্রথম দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটার তালিকা নিয়ে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে, সেগুলি শুধু জ্ঞানেশ কুমারের একার সিদ্ধান্ত নয় বলেও দাবি করেছেন অভিজিৎ দীপক। তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে আরও যাঁরা জড়িত, তাঁদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সিজেপির দ্বিতীয় দাবি, আপাতত দেশের আসন্ন সমস্ত নির্বাচন বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যকর থাকা ভোটার তালিকা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এসআইআর নিয়ে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও রয়েছে তাদের। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নথি ও তথ্য সংরক্ষণ করার কথা বলেছে সিজেপি, যাতে কোনও নথি নষ্ট বা পরিবর্তন করা না যায়। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও চেয়েছে তারা।
তৃতীয় দাবিতে ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন বাতিলের কথা বলেছে সিজেপি। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য নতুন আইন তৈরি করতে হবে। সেই আইন তৈরির সময় নাগরিক সমাজের মতামত নেওয়ার কথাও বলেছে সংগঠনটি।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন