জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায় বা Population Enumeration (PE) শুরু করার দিনক্ষণ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে দেশের অধিকাংশ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনার কাজ শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত। ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার, ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দফতরের তরফে এই সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে মূল জনগণনার পাশাপাশি স্ব-গণনা এবং পুনর্বিবেচনা পর্বের সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার কাজ শুরুর আগে নাগরিকদের নিজেদের তথ্য নিজেরাই অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে Self-Enumeration বা স্ব-গণনা পর্ব। এই সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করতে পারবেন। এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে সেনসাস কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মূল Population Enumeration-এর কাজ শুরু করবেন। এই পর্যায়ের কাজ শেষ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।
মূল গণনার কাজ শেষ হওয়ার পরেও চলবে আরও একটি পর্যায়। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত Revisional Round বা পুনর্বিবেচনা পর্ব পরিচালিত হবে। এই পর্যায়ে জনগণনার তথ্য পুনরায় যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ করা হবে। এবারের জনগণনার Reference Date বা তথ্যের নির্ধারিত ভিত্তি-তারিখ রাখা হয়েছে ২০২৭ সালের ১ মার্চ রাত ১২টা (০০:০০ ঘণ্টা)।
তবে ২৫ জানুয়ারি থেকে ঘোষিত এই সময়সূচি দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। বিজ্ঞপ্তিতে মণিপুরকে আপাতত এই সময়সূচির বাইরে রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে এই কর্মসূচি কার্যকর হবে না। অন্যদিকে, গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব ও উত্তরাখণ্ডের পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের তুষারাবৃত অসামঞ্জস্যপূর্ণ গণনা-সূচির আওতাধীন এলাকা এবং হিমাচল প্রদেশের তুষারাবৃত অঞ্চলগুলির জন্য পৃথক বিজ্ঞপ্তি আগেই জারি করা হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলগুলির জনগণনার সময়সূচি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী হবে বলে জানিয়েছে।
এবারের জনগণনায় মোট ৪০টি প্রশ্নের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ব্যক্তির নাম, পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, লিঙ্গ, জন্মতারিখ, বয়স, বৈবাহিক অবস্থা ও জাতীয়তার পাশাপাশি ধর্ম এবং জাতিগত পরিচয় সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হবে। কেউ তফসিলি জাতি (SC) বা তফসিলি উপজাতি (ST)-র অন্তর্ভুক্ত কি না, সেই তথ্যও নথিভুক্ত করা হবে।
শিক্ষা ও পেশা সংক্রান্ত বিষয়েও একাধিক প্রশ্ন থাকবে। কোনও ব্যক্তি বর্তমানে পড়াশোনা করছেন কি না, তাঁর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা কত, কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি কতটা সাক্ষর বা ডিজিটাল বিষয়ে দক্ষ, তা জানতে চাওয়া হবে। পাশাপাশি গত এক বছরে তিনি কোনও কাজ করেছেন কি না, কী ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর কর্মস্থল কোথায়, সেই তথ্যও সংগ্রহ করবেন জনগণনার কর্মীরা। কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য তিনি কী ধরনের পরিবহণ ব্যবহার করেন, সেটাও জানতে চাওয়া হবে।
এবারের জনগণনায় অভিবাসন বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনও ব্যক্তির জন্মস্থান কোথায়, তিনি আগে কোথায় থাকতেন, বর্তমান ঠিকানায় কেন এসেছেন এবং কতদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন, সেই তথ্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি মহিলাদের সন্তান সংক্রান্ত কিছু তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। তাঁদের কতজন সন্তান বর্তমানে জীবিত, জীবনে মোট কতজন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এবং গত এক বছরে কতজন সন্তানের জন্ম হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হবে।
এছাড়াও এবারের প্রশ্নমালায় রয়েছে কোভিড-১৯ টিকাকরণ সংক্রান্ত তথ্য। কোনও পরিবারে মোট কতগুলি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই তথ্যও নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি আধার নম্বর, ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর, ভারতীয় পাসপোর্টের নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হবে। নাগরিকদের মোবাইল নম্বরও প্রশ্নমালায় রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এবারের জনগণনায় শুধু দেশের জনসংখ্যা কত, তা জানাই নয়, মানুষের শিক্ষা, পেশা, সামাজিক পরিচয়, বসবাস এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দশ বছর অন্তর দেশে জনগণনা হওয়ার কথা। কিন্তু ২০২১ সালে কোভিড অতিমারির কারণে নির্ধারিত জনগণনা করা সম্ভব হয়নি। দেশে শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৭ সালে ফের দেশজুড়ে জনগণনা হতে চলেছে। এই গণনার মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যা এবং মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসবে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
