রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সূচনা করে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। ২৯৩ আসনের বিধানসভায় বিজেপি একাই ২০৬টি আসন দখল করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যেখানে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গিয়েছে মাত্র ৮০টি আসনে। বিধানসভার ম্যাজিক ফিগার ১৪৮-এর থেকে অনেক বেশি আসন পেয়ে গেরুয়া শিবির এখন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, এই নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের ভরাডুবি অব্যাহত রয়েছে; কংগ্রেস মাত্র দুটি এবং সিপিআই (এম) মাত্র একটি আসনে জয়লাভ করেছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি দুটি ও অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট একটি আসনে জয়ী হয়েছে। এবারের নির্বাচনের সবথেকে বড় চমক ছিল ভবানীপুর আসন, যেখানে সরাসরি লড়াইয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু একই সাথে নন্দীগ্রাম আসন থেকেও জয়ী হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পরাজয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী ও তারকা প্রার্থীরাও নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছেন।
বাংলায় এই ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন রাজ্য রাজনীতিতে সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?
নির্বাচনের আগে থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, কোনো ‘বহিরাগত‘ নয় বরং বাংলার মাটির সন্তান বা কোনো ‘ভূমিপুত্রই‘ হবেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ। তৃণমূলের বহিরাগত তত্ত্বের পাল্টা হিসেবেই এই কৌশল নিয়েছিল বিজেপি। জয়ের পর এখন সম্ভাব্য নামের তালিকায় উঠে আসছে বেশ কিছু পরিচিত মুখ। দলের হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারী দুই কেন্দ্রে জিতে নিজের শক্তি প্রমাণ করেছেন। আবার রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিও মুখ্যমন্ত্রী পদের আলোচনায় জোরালোভাবে রয়েছে। সুকান্ত মজুমদার এক নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন যে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ‘আমিষভোজী‘, যা আদতে মাছ-ভাত প্রিয় বাঙালির আবেগ ছোঁয়ারই চেষ্টা ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্যের নামও শোনা যাচ্ছে, যাঁকে দলের একজন ‘কম্প্রোমাইজ ক্যান্ডিডেট’ বা সর্বজনগ্রাহ্য মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ থেকে নিশীথ প্রামাণিকের বিপুল জয় এবং তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও রাজ্যের রুচিশীল ও উচ্চশিক্ষিত ভোটারদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকেও সম্ভাব্য মহিলা মুখ হিসেবে ভাবা হতে পারে। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অনেক ক্ষেত্রেই হিমাচল বা ওড়িশার মতো সম্পূর্ণ নতুন বা অপ্রত্যাশিত কোনো মুখকে সামনে এনে চমক দেওয়ার নজির রেখেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কে মহাকরণের শীর্ষ পদে বসবেন, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে।

