কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা: বাতিল তৃণমূল আমলের ওবিসি সার্টিফিকেট, অনিশ্চয়তার মুখে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা! জানুন সত্যিটা

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
4 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

রাজ্যে OBC-A এবং OBC-B সার্টিফিকেট নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা হাই কোর্টের।  বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি অনুজ সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যে OBC-A এবং OBC-B বলে আলাদা কোনও ক্যাটাগরি নেই। আগের সরকারের সংশোধিত ক্যাটাগরির ভিত্তিতে ইস্যু হওয়া OBC-A এবং OBC-B সার্টিফিকেটের বৈধতাও বাতিল করল হাইকোর্ট।  ফলে ওই সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে আর OBC সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া যাবে না। এমন সার্টিফিকেটধারীদের এখন জেনারেল ক্যাটাগরি হিসেবে গণ্য করা হবে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

তবে পুরো বিষয়টি বুঝতে গেলে ফিরে যেতে হবে চলতি বছরের ১৮ মে-তে।  ওই দিন রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার OBC সংরক্ষণ নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের OBC তালিকায় ৬৬টি শ্রেণিকে বহাল রাখা হয় এবং সরকারি চাকরি ও পরিষেবায় তাঁদের জন্য ৭ শতাংশ সংরক্ষণের কথা জানানো হয়।  একই সঙ্গে আগের OBC-A এবং OBC-B ভিত্তিক সংরক্ষণ কাঠামোও বাতিল করে।  অর্থাৎ, আগে যেখানে OBC-A এবং OBC-B এই দুই ভাগে আলাদা করে সংরক্ষণ দেওয়া হত, নতুন সরকার আসার পর সেই সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকছে না।

এর আগে, ১৮ মে ২০২৬ এ রাজ্য সরকারের নতুন OBC বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলাও হয়।  গত ২২ জুলাই সেই মামলার শুনানি হয়েছিল।  ওই শুনানিতে রাজ্য সরকারকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলেছিল আদালত।

রাজ্যের OBC সংরক্ষণ নিয়ে বর্তমান বিতর্কের সূত্র অবশ্য আরও পুরনো।  ২০১০ সালের পর রাজ্যে একাধিক নতুন সম্প্রদায়কে OBC তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তাঁদের OBC-A এবং OBC-B এই দুই ভাগে ভাগ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে তৎকালীন সরকার।  এই তালিকা তৈরির পদ্ধতি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়কে OBC মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন গাফিলতির অভিযোগ উঠে, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টে যায়।

২০২৪ সালের মে মাসে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ২০১০ সালের পর যুক্ত হওয়া একাধিক শ্রেণির OBC মর্যাদা বাতিল করে।  আদালত ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যুক্ত হওয়া ৭৭টি শ্রেণি এবং ২০১২ সালের আইনের মাধ্যমে তৈরি আরও ৩৭টি শ্রেণির সংরক্ষণ খারিজ করেছিল।  তবে ২০১০ সালের আগের ৬৬টি শ্রেণির ক্ষেত্রে সেই রায় প্রযোজ্য হয়নি।

এর পর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিধানসভায় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পেশ করে বিজেপি সরকার। এর ফলে ১৯৯৩ সালের মূল তালিকায় থাকা ৬৬টি জনগোষ্ঠীই OBC হিসেবে বহাল থাকে।

জানা গেছে, যার ফলে বামফ্রন্ট সরকারের শেষ দিক থেকে তৃণমূল জমানায় যুক্ত হওয়া ১১৩টি জনগোষ্ঠী বাদ পড়ে যায়। অপরদিকে , সরকারি চাকরিতে OBC সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে কমে পুনরায় ৭ শতাংশে নিয়ে আসে রাজ্যের বিজেপি সরকার।

পাশাপাশি, নতুন সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আগের মতো OBC-এ এর জন্য ১০ শতাংশ এবং OBC-বিএর জন্য ৭ শতাংশ আলাদা করে সংরক্ষণ থাকছে না।  এখন কেবলমাত্র OBC থাকছে ,আর এর জন্য ৭ শতাংশ সংরক্ষণ রেখেছে সরকার।  ফলে মোট OBC সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশ হয়েছে।

ওবিসি সার্টিফিকেটধারীদের কী হবে?

এই পরিবর্তনের ফলে পুরনো OBC-A এবং OBC-B সার্টিফিকেটধারীদের সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।  নতুন নিয়ম অনুযায়ী OBC-A এবং OBC-B বলে পৃথক কোনও শ্রেণি না থাকায় ওই শ্রেণির ভিত্তিতে ইস্যু হওয়া সার্টিফিকেট আর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে না।  ফলে ওই সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে যাঁরা OBC সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের সরকারি চাকরি ও অন্যান্য সংরক্ষিত সুযোগের ক্ষেত্রে সাধারণ শ্রেণি বা জেনারেল ক্যাটাগরি হিসেবে গণ্য হবে।

এদিকে, তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে ২০১১ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ SC, ST এবং OBC সার্টিফিকেট ধাপে ধাপে খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার।  যার মধ্যে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া প্রায় ৪৮ লাখ সার্টিফিকেটও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এই সব সার্টিফিকেট পুরনায় যাচাই বাছাই করবে এবং কোনও সার্টিফিকেটে জালিয়াতি বা অনিয়ম ধরা পড়লে তা বাতিল করার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থার নেবে বলে জানিয়েছিল।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।