ভারতের সংবিধান যিনি নিজের হাতে সাজিয়েছিলেন, সেই বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও শান্তিনিকেতনের বুথ থেকে ভোট না দিয়েই ফিরে আসতে হলো তাঁর নাতি ও নাতবউকে।
নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রী দীপা সেনের নাম ভোটার তালিকায় ছিল না। তাঁরা তাঁদের অধিকার ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত তাঁদের ভোট দেওয়ার অনুমতি দেয় এবং একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালও তাঁদের পক্ষে রায় দেয়।
বৃহস্পতিবার সকালে এই বয়স্ক দম্পতি খুব আশা নিয়ে বীরভূমের বোলপুর কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। কিন্তু বুথে গিয়ে দেখেন, ভোটার তালিকায় তখনও তাঁদের নাম তোলা হয়নি। সেখানকার অফিসাররা জানান, আদালতের কাগজ দেখালেও হবে না, জেলাশাসকের অফিস থেকে আলাদা করে লিখিত অনুমতি আনতে হবে।
শান্তিনিকেতন থেকে সিউড়িতে জেলাশাসকের দপ্তরের দূরত্ব নেহাত কম নয়। এই প্রখর দাবদাহের মধ্যে আশি ঊর্ধ্ব এই বৃদ্ধ দম্পতির পক্ষে অতটা পথ পাড়ি দিয়ে আবার লিখিত অনুমতি নিয়ে আসা একপ্রকার অসম্ভব ছিল। ফলে সুপ্রিম কোর্টের দোরগোড়া থেকে অধিকার ছিনিয়ে আনলেও, শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক জটিলতা আর পরিস্থিতির চাপে এদিন ভোট না দিয়েই ফিরতে হলো তাঁদের। সূত্র মারফত এমনটাই জানা গেছে।
