যে শিল্পীর তুলিতে সেজেছিল ভারতের মূল সংবিধান, সেই নন্দলাল বসুর উত্তরসূরিকে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েই পড়তে হলো চরম বিড়ম্বনায়। সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান আর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জয় পাওয়ার পরেও আজ সকালে শান্তিনিকেতনের বুথ থেকে কার্যত অপমানিত হয়ে ফিরতে হয় ৮৮ বছরের সুপ্রবুদ্ধ সেন ও তাঁর স্ত্রীকে। তবে সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়তেই টনক নড়েছে নির্বাচন কমিশনের। শেষ মুহূর্তে সিইও (CEO) দপ্তরের নির্দেশে আজ বিকেল ৫টায় এই প্রবীণ দম্পতির জন্য বিশেষ ভোটদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আজ সকালে বুথে গেলে কর্তব্যরত আধিকারিকরা তাঁদের সাফ জানিয়ে দেন, হাতে আদালতের নির্দেশ থাকলেও ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তাঁদের ভোট নেওয়া সম্ভব নয়। এমনকি সমাধান হিসেবে তাঁদের এই অসুস্থ শরীরে ৩০ কিলোমিটার দূরে সিউড়িতে গিয়ে জেলাশাসকের অনুমতি আনতে বলা হয়। প্রশাসনের এমন সংবেদনহীনতায় ক্ষুব্ধ প্রবীণ দম্পতি চোখের জল মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন।
তবে খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। তড়িঘড়ি ‘ভুল’ স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে এবং জানানো হয়েছে, একটি যান্ত্রিক গোলযোগ বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখন বিকেল ৫টায় প্রশাসনের বিশেষ নজরদারিতে তাঁদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল ২০২৬-এর এই প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে ৩.৬ কোটি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যার জন্য ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
