কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় নির্বাচনের আগে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্যের বিজেপি সরকার। দুই পুরসভাতেই ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার বিধানসভায় কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে।
নতুন আইনে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হবে। তবে বোরোর সংখ্যা ১৬-ই থাকছে। সরকারের দাবি, গত কয়েক বছরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যা ও বসতির পরিমাণ বদলেছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে পুর প্রশাসনকে মানিয়ে নিতেই ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এ দিনের বিলের মাধ্যমে শুধু কাউন্সিলরের সংখ্যা বাড়ানোর আইনি ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কোন এলাকার সঙ্গে কোন এলাকা যুক্ত হবে বা কোথায় নতুন ওয়ার্ড তৈরি হবে, তা এখনই ঠিক করছে না রাজ্য সরকার। সেই দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।
কমিশন খসড়া ওয়ার্ড তালিকা প্রকাশ করার পর সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের দাবি ও আপত্তি জানাতে পারবেন। সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, কলকাতার সব ওয়ার্ডে বর্তমানে সমান সংখ্যক মানুষ বসবাস করেন না। কোনও এলাকায় জনসংখ্যা অনেক বেশি, আবার কোথাও তুলনামূলকভাবে কম। এই অসামঞ্জস্যের কারণে নাগরিক পরিষেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। নতুন করে ওয়ার্ড ভাগ হলে প্রশাসনিক কাজ আরও সহজ হবে বলে সরকারের আশা।
কলকাতা পুরসভার আর্থিক পরিস্থিতি এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়েও বিধানসভায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে জল জমা, নিকাশি এবং পরিকাঠামোর উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
হাওড়াতেও একই সঙ্গে ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে ৫০টি ওয়ার্ড রয়েছে। সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পর সেই সংখ্যা বেড়ে ৬৮ হবে।
সরকারের বক্তব্য, হাওড়ার জনসংখ্যা, এলাকার বিস্তার এবং ভৌগোলিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুরসভার ওয়ার্ড কাঠামো নতুন করে সাজানো প্রয়োজন। বর্তমানে কিছু ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ হাজারের মধ্যে। পুনর্বিন্যাসের পরে প্রতি ওয়ার্ডে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

