কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ও এআইএমআইএম (AIMIM) নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কালিয়াচকের মোথাবাড়ি ব্লক অফিসে সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সিআইডি তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, একটি গাড়ির উপর থেকে দেওয়া তাঁর একটি বয়ান এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটায়। দাবি করা হচ্ছে, তিনি “প্রথমে ভোটার, তারপর ভোট” (First the voter, then the vote) ইস্যুতে স্থানীয় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে বক্তব্য দেন, যার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সূত্রে জানা যাচ্ছে, তাঁর নামে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং ঘটনার পর তিনি রাজ্য ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ। মোফাক্কেরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর এক সহযোগী আকরামুল বাগানীয়কেও আটক করা হয়েছে। বর্তমানে মোফাক্কেরুল ইসলাম ১৪ দিন এবং আকরামুল ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। আপাতত এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সামলাচ্ছে এনআইএ (NIA)।
তবে এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন দাবি তুলেছেন হুমায়ূন কবির। এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট করে জানান, মোফাক্কেরুল ইসলামকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হুমায়ূন কবিরের দাবি অনুযায়ী, মোফাক্কেরুল যে স্থানে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটি ছিল সুজাপুর বিধানসভার ডাঙা এলাকার জাতীয় সড়ক ১২, যা মোথাবাড়ি বিডিও অফিস থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে। সেখানে আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ অহিংস এবং ওই জমায়েতের সঙ্গে বিচারকদের আটকে পড়ার কোনো যোগসূত্র নেই। বরং তিনি প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে সুজাপুরের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে স্থগিত করতে ভূমিকা পালন করেছিলেন। একই জমায়েতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও কেন শুধুমাত্র মোফাক্কেরুল ইসলামকে টার্গেট করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা মোফাক্কেরুল ইসলাম পেশায় একজন আইনজীবী। প্রথমে রায়গঞ্জ জেলা আদালত ও বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে কর্মরত এই ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (CAA), জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) এবং মুসলিমদের জন্য স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর মতো ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ায় তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে এআইএমআইএম-এর প্রার্থী হতে দেখা গিয়েছিল।
এছাড়াও আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামের স্ত্রী দাবি করেছেন, তিনি পেশাগত কাজে কলকাতা আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাঁকে অন্যায়ভাবে আটক করেছে।

