এসআইআর (SIR) এর পর এটাই ছিল বাংলার প্রথম নির্বাচন। সেই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়া নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই তপ্ত ছিল রাজনৈতিক আঙিনা। কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্যের ১৫২টি আসনেই উপচে পড়া ভিড় এবং প্রায় ৯০ শতাংশের রেকর্ড ভোটদান নতুন করে চর্চা শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। আর এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির নেপথ্যে এনআরসি (NRC) এবং ডিলিমিটেশন-আতঙ্ককেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ দিন চৌরঙ্গীর নির্বাচনী জনসভা থেকে মমতা সোজাসুজি ভোটারদের এই লম্বা লাইনের ব্যাখ্যা দেন। বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এত ভোট কাটার পরেও কেন মানুষ এইভাবে বেরিয়ে আসছে জানেন?” নিজেই তার উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, মানুষ বুঝেছে এটা স্রেফ ভোট নয়, এটা তাঁদের অধিকার রক্ষার লড়াই।” তিনি দাবি করেন, তালিকায় নাম কাটার মাধ্যমে যাঁদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হয়েছিল, তাঁরা বুঝতে পেরেছে তাই আজ অধিকারে অবিচল থেকে বুথে আছড়ে পড়েছেন।
প্রথম দফার ১৫২টি আসনের সিংহভাগ এলাকাতেই বিকেল পর্যন্ত বুথের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। ৯ শতাংশের বেশি ভোটারের নাম কাটা যাওয়ার পরেও এই ৯০ শতাংশ ভোটদান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল শিবিরের দাবি, মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁরা নাগরিকত্বের প্রশ্নে কোনও আপস করবেন না।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিপুল ভোটদানকে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বলে দাবি করছেন।
