নয়াদিল্লি: সবরীমালা শ্রী আয়াপ্পা মন্দির সংক্রান্ত মামলার অষ্টম দিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে যেমন হাসির রোল উঠল, তেমনই উঠে এল জরুরি কিছু সাংবিধানিক প্রশ্ন। শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্না স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “তথ্য নেওয়ার উৎস হিসেবে ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’র ওপর নির্ভর করা যায় না।” বিচারপতির এই মন্তব্য আদালত কক্ষে হাঁসির রোল ছাড়িয়ে পড়লেও এখন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় এদিন আদালতে সওয়াল করার সময় প্রবীণ আইনজীবী নীরজ কিষাণ কৌল সাংসদ শশী থারুরের একটি প্রবন্ধের লেখা উল্লেখ করেন। ওই প্রবন্ধে লেখা ছিল যে, ধর্মীয় বিষয়ে আদালতের সংযত থাকা উচিত। তখন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, কারোর ব্যক্তিগত মত আদালতের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। এর জবাবে আইনজীবী বলেন, জ্ঞান যে কোনো উৎস থেকেই আসুক না কেন, তা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিচারপতি নাগরত্না কৌতুকের ছলে মন্তব্য করেন, “কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি থেকে নয়।”
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ ৪-১ সংখ্যাধিক্য রায়ে সবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের নারীদের প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, শুধুমাত্র লিঙ্গ বা শারীরিক কারণ দেখিয়ে নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া সংবিধান বিরোধী।
তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে অনেকগুলো পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা পড়ে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, আয়াপ্পা ভক্তদের নিজস্ব ধর্মীয় আচার রয়েছে এবং সংবিধানের ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই প্রথা রক্ষার অধিকার তাঁদের আছে। ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এই বিষয়টিকে আরও বড় সাংবিধানিক প্রশ্ন হিসেবে চিহ্নিত করে নয় বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই বৃহত্তর বেঞ্চেই ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারীর অধিকার এবং আদালতের হস্তক্ষেপের সীমা নিয়ে বিচার চলছে।
প্রসঙ্গত, আইনজীবীদের মতে, এই মামলার রায় শুধুমাত্র সবরিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। হাজি আলি দরগা কিংবা শনি শিংনাপুর মন্দিরের মতো অন্যান্য ধর্মীয় প্রথার ক্ষেত্রেও এই রায় বড় ভূমিকা নিতে পারে।

