ভোটের ডিউটি করেও ভোট দিতে পারছেন না ৬৫ কর্মী! কেন ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
প্রতীকী চিত্র
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

নির্বাচনের ডিউটি করছেন, অথচ নিজের ভোটটাই দিতে পারছেন না! শুনতে অবাক লাগলেও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এমনই এক বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন ৬৫ জন ভোটকর্মী।  ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট অবধি গড়িয়েছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) পর দেখা যায়, ৬৫ জন সরকারি কর্মীর নাম তালিকা থেকে বাদ চলে গেছে।  এঁদের মধ্যে কেউ বুথের প্রধান বা প্রিসাইডিং অফিসার, আবার কেউ পোলিং অফিসার।  যেহেতু ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাই নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তাঁদের জন্য কোনো ‘পোস্টাল ব্যালট‘ (ভোট দেওয়ার বিশেষ মাধ্যম) ইস্যু করতে পারেনি।  ফলে তাঁরা ভোট পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও নিজের ভোটটি দিতে পারছেন না।

নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে এই কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন।  শুক্রবার বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।

এদিন আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোট দেওয়ার অধিকার কোনো মৌলিক অধিকার নয়, এটি একটি আইনি অধিকার। তাই আদালত সরাসরি কাউকে ভোট দেওয়ার আদেশ দিতে পারে না।  এবং সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীদের কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।  সেখানে একটি বিশেষ ‘অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল‘ বা আইনি কমিটির কাছে তাঁদের আবেদন করতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও এদিন শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী একটি জনপ্রিয় প্রবাদ মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রশাসনিক জটিলতায় যেন সাধারণ কর্মীদের অধিকার নষ্ট না হয়।

আদালতের বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি নির্বাচনে এই ৬৫ জন কর্মীর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।  তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে যাতে তাঁরা অবশ্যই তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পান, ট্রাইব্যুনালকে তা নিশ্চিত করতে হবে।  অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকেও আদালতে জানানো হয়েছে যে, ভোটার তালিকায় নাম তোলার গতি অত্যন্ত ধীর, যার ফলে সাধারণ মানুষের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।