শুরু হয়ে গেল বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টিং। সোমবার সকাল ৮টার বাজার সঙ্গেই বাংলার ভাগ্য কার দখলে তাঁর পর্দা উঠল। ঠিক হবে আগামী পাঁচ বছর কার দখলে থাকছে নবান্ন। শহর থেকে জেলা গোটা রাজ্যের নজর এখন ৭৭টি গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমের দিকে।
ভোর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের প্রবেশপথে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। কড়া স্ক্রিনিং আর কিউআর কোড যুক্ত পরিচয়পত্র যাচাই করে তবেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে কাউন্টিং এজেন্টদের। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে। গণনাকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতেও এখন শুধুই জল্পনা আর শেষ মুহূর্তের হিসেব মেলাবার হিড়িক।
নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মোট ১৬৫ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। শুরু হয়ে গেল গণনা, সকাল ৮টায় প্রথমে শুরু হয়েছে পোস্টাল ব্যালটের গণনা, আর ঠিক আধঘণ্টা পর সাড়ে ৮টা থেকে খুলতে শুরু হবে ইভিএম। কলকাতার বৃহত্তম গণনাকেন্দ্র ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রেও চলছে জোর তৎপরতা। যদিও ইভিএম জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে দলীয় কর্মীদের আগেভাগেই সতর্ক থাকতে বলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দুপুর বারোটার দিকে। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি রাউন্ড শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটের প্রাথমিক ঝোঁক বা প্রথম কয়েক রাউন্ডের ইভিএম গণনা অনেক সময় চূড়ান্ত ফলাফলের সঙ্গে মেলে না। ফলে, শুরুতেই কেউ এগিয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে শেষ হাসি তিনিই হাসবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল না হওয়া পর্যন্ত বাংলার ক্ষমতা কার হাতে যাচ্ছে, সেই ছবি পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়া কঠিন। তবে বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলে সন্ধ্যার মধ্যেই বোঝা যাবে, ২৯৩টি আসনের জনরায় আসলে কার পাল্লা ভারী করল।

