বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বিগ্রহের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার ফলে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ‘দেশপ্রেম’ এর এক নতুন সংজ্ঞা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্তে যুদ্ধ করাই একমাত্র দেশসেবা নয়, বরং সংকটের সময়ে দেশের সম্পদ রক্ষা করাও প্রত্যেক নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য।
প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ আবেদনের মূল লক্ষ্য হলো ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার (Foreign Exchange Reserve) সুরক্ষিত রাখা এবং জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো।
এরজন্য প্রধানমন্ত্রী সাতটি আহ্বানের আর্জি জানিয়েছেন, জানুন সেগুলো কী কী:
১. জ্বালানি তেলের সিংহভাগ ভারতকে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এদিন প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তে নাগরিকরা যেন মেট্রো বা বাসের মতো গণপরিবহণ বেশি ব্যবহার করেন। অফিসের যাতায়াতে ‘কার-পুলিং’ বা সহকর্মীদের সাথে গাড়ি ভাগ করে নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে ট্রাকের বদলে রেল পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে, কারণ বৈদ্যুতিক রেলে তেলের খরচ নেই।
২. মোদি বলেন করোনা অতিমারি আমাদের শিখিয়েছিল কীভাবে ঘরে বসে দক্ষভাবে কাজ করা যায়। মোদি সেই অভ্যাসকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমিয়ে অনলাইন মিটিং এবং বাড়ি থেকে কাজ করলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে, যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
৩. ভারতীয় সংস্কৃতিতে সোনার গুরুত্ব অপরিসীম হলেও, সোনা আমদানি করতে ভারতকে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে অনুরোধ করেছেন, দেশের স্বার্থে অন্তত আগামী এক বছর যেন কেউ নতুন করে সোনা না কেনেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে যুদ্ধের সময় মানুষ সোনা দান করতেন, বর্তমান সংকটে দানে নয়, বরং কেনা বন্ধ রেখেও দেশসেবা করা সম্ভব।
৪. মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের মধ্যে বর্তমানে বিদেশে ছুটি কাটানো বা ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের প্রবণতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী আর্জি জানিয়েছেন, অন্তত এক বছরের জন্য এই বিদেশযাত্রা স্থগিত রাখতে। এতে বিদেশি মুদ্রার বহির্গমন কমবে এবং ভারতের পর্যটন শিল্পও সমৃদ্ধ হবে।
৫. বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রতি মোহ ত্যাগ করে ভারতীয় পণ্য বা ‘স্বদেশী’ পণ্য ব্যবহারের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় শিল্প উৎসাহিত হবে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
৬. রাসায়নিক সার আমদানিতে সরকারকে বিপুল ভতুর্কি ও বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয়। তাই কৃষকদের প্রতি মোদির আহ্বান রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক বা জৈব চাষের দিকে অগ্রসর হতে। এটি দেশের মাটির স্বাস্থ্য যেমন ভালো রাখবে, তেমনি অর্থনৈতিক চাপও কমাবে।
৭. ভারতকে ভোজ্য তেলের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আনতে হয়। দৈনন্দিন রান্নায় তেলের ব্যবহারে সংযম বজায় রাখলে দেশের ভাঁড়ারে সঞ্চিত অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব।

