সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যে শুরু হতে চলেছে জনগণনা বা সেন্সাস (Census) প্রক্রিয়া। কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে সোমবার থেকেই এই কাজ শুরুর প্রশাসনিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে, পূর্বতন সরকার প্রায় এক বছর ধরে এই কাজ আটকে রেখেছিল, যা এখন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে।
এবারের জনগণনা হতে চলেছে ভারতের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ‘পেপারলেস’ বা কাগজবিহীন প্রক্রিয়া। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই কাজ দ্রুত ও নির্ভুল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত দুটি ধাপে এই কাজ সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপটি শুরু হচ্ছে ‘হাউস লিস্টিং অ্যান্ড হাউজিং সেন্সাস’ বা বাড়ি ও পরিবারের তালিকা তৈরির মাধ্যমে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হবে মূল জনসংখ্যা গণনা এবং জাতিভিত্তিক গণনা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নাগরিকদের সুবিধার্থে এবার ঘরে বসে অনলাইনেই তথ্য জমা দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আগে যেমন সেন্সাস কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন, যা ছিল দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। এবার সেই ঝক্কি কমাতে চালু হয়েছে ‘সেলফ-ইনিউমারেশন’ বা স্ব-গণনা পদ্ধতি। সাধারণ মানুষ চাইলে গণনাকারী আসার আগেই se.census.gov.in পোর্টালে গিয়ে নিজের ও পরিবারের তথ্য জমা দিতে পারবেন। আগামী ৭ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত এই পোর্টালটি খোলা থাকবে। বাংলাসহ দেশের মোট ১৬টি ভাষায় এই তথ্য দেওয়া যাবে। এতে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি মূলত চারটি ধাপে সম্পন্ন হবে
প্রথমত, পোর্টালে গিয়ে নিজের রাজ্য বেছে নিয়ে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। মনে রাখবেন, একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে কেবল একটি পরিবারেরই তথ্য দেওয়া যাবে।
দ্বিতীয়ত, পছন্দের ভাষা বেছে নিয়ে ওটিপি (OTP) র মাধ্যমে ভেরিফিকেশন করতে হবে। ভুল এড়াতে পোর্টালে থাকা ডিজিটাল ম্যাপে নিজের বাড়ির সঠিক অবস্থান বা লোকেশন লাল মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, পরিবারের সদস্যদের নাম, ঘরবাড়ির অবস্থা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করতে হবে।
চতুর্থত, সব তথ্য ঠিক থাকলে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর সিস্টেম থেকে ১১ সংখ্যার একটি ইউনিক আইডি (SE ID) দেওয়া হবে, যা ‘H’ দিয়ে শুরু হবে। এটি আপনার মোবাইলে বা ই-মেলে চলে আসবে।
এছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোন ৩৩টি প্রশ্ন করা হবে?
আপনি অনলাইনে তথ্য দিন বা না দিন, জনগণনা কর্মীরা যাচাইয়ের জন্য আপনার বাড়িতে অবশ্যই আসবেন। তাঁদের বাড়ি ও পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাড়ির মেঝে, দেওয়াল ও ছাদ কী দিয়ে তৈরি, পরিবারে মোট কতজন সদস্য থাকেন, পানীয় জল ও আলোর প্রধান উৎস কী, বাড়িতে শৌচাগার ও স্নানের আলাদা সুবিধা আছে কি না, রান্নার জন্য এলপিজি ব্যবহার করা হয় কি না ইত্যাদি। এছাড়া বাড়িটি নিজস্ব নাকি ভাড়া, বাড়িতে টেলিভিশন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট বা নিজস্ব গাড়ি আছে কি না এই সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। প্রথমবারের মতো এবার সাধারণ মানুষের জাতিগত বিবরণও নথিভুক্ত করা হবে।
সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য ১৮৫৫ নম্বরের একটি কেন্দ্রীয় হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করা হবে। অনলাইনে দেওয়া তথ্য সুরক্ষিত সার্ভারে রাখা হবে এবং তা কেবল সরকারি কাজেই ব্যবহৃত হবে। যখন জনগণনা কর্মী আপনার বাড়িতে আসবেন, তখন আপনাকে শুধু অনলাইনে প্রাপ্ত সেই ১১ সংখ্যার ‘এসই-আইডি’ (SE ID) দেখালেই হবে। যদি আপনার দেওয়া তথ্য সঠিক থাকে, তবে কর্মী সেই ডেটা সরাসরি গ্রহণ করবেন, যা আপনার সময় বাঁচাবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ দ্রুত শেষ করতে চাইছে।

