বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় তদন্ত চলাকালীন বড় ঘটনা। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। বুধবার ভোরে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রভাসকে সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময়ই পুলিশের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। অভিযোগ, পালানোর সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে একটি গুলিও চালায়। এরপর আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুরুতর জখম হয়। তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতারের পর থেকে প্রভাসের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর উত্তর দিচ্ছিল বলেও অভিযোগ। তদন্তে বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার করতেই তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। তবে পুনর্নির্মাণ শুরুর আগেই পরিস্থিতি আচমকা বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয় অভিযুক্তের।
গত রবিবার সকালে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ১১ বছরের এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, অপহরণের পর তাকে গণধর্ষণ করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার আগে নাবালিকাকে প্রভাসের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ-সহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ প্রথমে প্রভাসকে গ্রেফতার করে। এরপর আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দারকেও আটক করা হয়।
এদিকে, মামলায় আরও এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থেকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং জেলা পুলিশের যৌথ বাহিনী। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাকে জেরা করে ঘটনার বাকি দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই নিয়ে মামলায় মোট চারজন অভিযুক্ত পুলিশের হেফাজতে এসেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারুইপুরে এখনও উত্তেজনা অব্যাহত। অন্যদিকে, বিক্ষোভ, ভাঙচুর, রেল অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও বহুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল জানান, ছেলে যে অপরাধ করেছে তার কোনও ক্ষমা নেই। তিনি মৃতদেহ গ্রহণ করতেও অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, একজন মা হিসেবে কষ্ট থাকলেও এমন অপরাধের জন্য ছেলের কঠোর শাস্তিই প্রাপ্য ছিল। তিনি বলেন, ছেলে দীর্ঘদিন নেশায় আসক্ত ছিল এবং পরিবারের কোনও কথাই শুনত না। এমন অপরাধের পর তার জন্য কোনও সহানুভূতি নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। এমনকি এর আগেও তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ছেলে যদি এই অপরাধ করে থাকে, তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তিই হওয়া উচিত।
তবে প্রভাসের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের যে বর্ণনা সামনে এসেছে, তা এখন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। পাশাপাশি নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল তদন্তও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

