জনগণনা ২০২৭-এ বড় বদল, ৩৩ নয় এবার ৪০ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে; জাতি-ধর্ম থেকে আধার-পাসপোর্ট, কোভিড—কী কী তথ্য নেবে কেন্দ্র? জানুন

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
5 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

জনগণনা ২০২৭ কে ঘিরে বড় ঘোষণা কেন্দ্রের।  প্রথম পর্যায়ে ৩৩টি প্রশ্নের মাধ্যমে বাড়ি ও বাসস্থানের তথ্য সংগ্রহের কথা আগেই জানানো হয়েছিল।  এবার দ্বিতীয় পর্যায়ের Population Enumeration বা মূল জনসংখ্যা গণনার জন্য ৪০টি প্রশ্নের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবে সেনসাস কর্মীরা।  শুক্রবার, ১৪ অগস্ট, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তিতে Population Enumeration এর সময় কী কী তথ্য নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত জানিয়েছে।  আর সেই তালিকায় রয়েছে জাতি, ধর্ম, শিক্ষা, পেশা, অভিবাসনের মতো তথ্যের পাশাপাশি আধার, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং কোভিড-১৯ টিকাকরণের তথ্যও।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

নতুন বিজ্ঞপ্তিটি ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল তথা Census Commissioner মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণের নামে জারি হয়েছে।  এবারের জনগণনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে অন্যতম হল জাতিগত পরিচয়ের তথ্য সংগ্রহ। প্রশ্নমালায় আলাদা করে দিতে হবে কোনও ব্যক্তি তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST)-র অন্তর্ভুক্ত কি না এবং তাঁর জাতিগত পরিচয় কী।  স্বাধীনতার পর সাধারণ জনগণনায় এইভাবে সমস্ত জাতির তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা ছিল না।  ২০২৭ সালের জনগণনায় সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।

জাতির পাশাপাশি ধর্মের তথ্যও নেবে।  ব্যক্তির নাম, পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, লিঙ্গ, জন্মতারিখ, বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, জাতীয়তা এই ধরনের প্রাথমিক পরিচয়ের পর ধর্ম এবং জাতিগত পরিচয় জানতে চাওয়া হয়েছে।  ফলে এবারের জনগণনার মাধ্যমে দেশের সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে আগের তুলনায় আরও বিস্তারিত তথ্য পাবে কেন্দ্রীয় সরকার।

শুধু পরিচয় নয়, মানুষের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের তথ্য দিতে হবে এবারের জনগণনায়।  কোনও ব্যক্তি বর্তমানে পড়াশোনা করছেন কি না, তাঁর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা কী, কোন বিষয়ে পড়েছেন, তিনি কতটা সাক্ষর বা ডিজিটালি সাক্ষর এসব তথ্য নেওয়া হবে।  পাশাপাশি গত এক বছরে কাজ করেছেন কি না, কী কাজ করেন, কোন পেশায় যুক্ত, কোন শিল্প বা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এবং কর্মস্থলে কীভাবে যাতায়াত করেন, সেই তথ্যও প্রশ্নমালায় রয়েছে।

এবার জনগণনায় Migration বা অভিবাসনের উপরও গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্র।  জন্মস্থান কোথায়, শেষবার কোথায় ছিলো, কেন বর্তমান জায়গায় চলে এসেছে এবং কতদিন ধরে বর্তমান জায়গায় আছে এসব তথ্য নেবে।

এছাড়াও পরিবার এবং সন্তান সংক্রান্ত তথ্যও দিতে হবে।  নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মহিলাদের কতজন সন্তান বর্তমানে জীবিত, জীবনে মোট কতজন সন্তান জীবিত জন্মেছে এবং গত এক বছরে কতজন সন্তান জন্মেছে এই তথ্যও সংগ্রহ করবেন গণনাকারীরা।  অর্থাৎ শুধু বর্তমান জনসংখ্যা নয়, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধরণ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করবে।

তবে এবার প্রশ্নমালায় এমন কয়েকটি বিষয় রয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।  তার মধ্যে অন্যতম কোভিড-১৯ টিকা।  কোথায় কোভিড টিকা নিয়েছে, সেই তথ্যও জনগণনার অংশ করেছে। পাশাপাশি জানতে চাওয়া হয়েছে মোট কতগুলি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে।

এর সঙ্গে রয়েছে একাধিক পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য।  আধার নম্বর, ভোটার আইডি নম্বর, ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলে তার নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে কি না এসব তথ্যও ৪০টি প্রশ্নের মধ্যে আছে ।  পাশাপাশি মোবাইল নম্বরও এই প্রশ্নমালার অংশ হিসেবে থাকছে।

প্রসঙ্গত, Census 2027 এর কাজ দুটি পৃথক ধাপে সম্পন্ন হবে।  প্রথম ধাপে Houselisting and Housing Census এর মাধ্যমে বাড়ি, পরিবারের বাসস্থান এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবে।  এই পর্যায়ের প্রশ্নমালায় ৩৩টি মূল প্রশ্ন রয়েছে, যা আগেই জানিয়েছে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে হবে Population Enumeration বা মূল জনসংখ্যা গণনা, যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত, সামাজিক, শিক্ষাগত, পেশাগত, অভিবাসন-সহ বিভিন্ন তথ্য নেওয়া হবে।  কেন্দ্রের ১৪ অগস্টের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে এই দ্বিতীয় ধাপের জন্যই ৪০টি প্রশ্ন নির্ধারণ করেছে।

Census 2027 এর প্রথম ধাপের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।  পশ্চিমবঙ্গে ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত চলছে Self-Enumeration বা স্ব-গণনা, যা আজ শেষ হবে।  এই পর্বে বাড়িতে বসেই অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।  এরপর ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণনাকারীরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে Houselisting and Housing Census এর তথ্য সংগ্রহ করবেন।  প্রথম ধাপে মূলত বাড়ি ও পরিবারের বাসস্থান সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

Census 2027 এর দ্বিতীয় ধাপে Population Enumeration মূলত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হওয়ার কথা।  তবে লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত এলাকাগুলির ক্ষেত্রে সময়সূচিতে পৃথক ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে।  এই পর্যায়েই ব্যক্তির ধর্ম, জাতি, শিক্ষা, পেশা, অভিবাসন, সন্তান সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি আধার, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করবে সেনসাস কর্মীরা।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।