২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবার নন্দীগ্রামের সভা থেকে তৎকালীন ঘটনার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি তাঁর কাছে থাকার দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার সেই নথির কথা উল্লেখ করেই আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ওই ঘটনা নিয়ে তদন্ত হবে এবং আদর্শ আচরণবিধি উঠে যাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানানো হবে। তাঁর দাবি, বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের রেডিয়ো ডায়াগনোসিস বিভাগের ১১ মার্চ ২০২১ এর রিপোর্টে পায়ে ফ্র্যাকচারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম পর্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভেঙে যাওয়ার যে প্রচার হয়েছিল, সেই দাবি নিয়ে তিনি নতুন করে তদন্তের পথে হাঁটবেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথিতে ‘নো এভিডেন্স অফ ফ্র্যাকচার’ উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সিআইডি তদন্ত করছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনী বিধি উঠে গেলে এই অভিযোগের বিষয়ে নতুন করে তদন্তের পদক্ষেপ করা হবে এবং ৯ অক্টোবরের পর তা জানানো হবে।
এর আগে শুক্রবার নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে একই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর কাছে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তা প্রকাশ্যে আনা হবে। শুভেন্দুর বক্তব্য ছিল, ওই ঘটনায় গাড়ির দরজা একটি লোহার বিমে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে লাগে। তাঁর দাবি, চোট লাগলেও পায়ে ফ্র্যাকচার হয়নি।
২০২১ সালের ঘটনার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী ছিলেন। ১০ মার্চ বিরুলিয়া বাজার এলাকায় প্রচারের সময় তাঁর পায়ে চোট লাগে। এরপর তাঁকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় তাঁর পায়ে প্লাস্টার ছিল এবং পরবর্তী নির্বাচনী প্রচারে তিনি হুইলচেয়ারে অংশ নেন। সেই সময় ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছিল।
তবে ওই সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া রিপোর্টের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের ১৩ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং মমতার গাড়ির উপর হামলার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রাজ্যের মুখ্যসচিবের রিপোর্টেও গাড়ির দরজার আঘাতে তাঁর পায়ে চোট লাগার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
ফলে পাঁচ বছর পর শুভেন্দুর নতুন দাবি ঘিরে ফের পুরনো নন্দীগ্রাম-পর্ব রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। একদিকে শুভেন্দু চিকিৎসা সংক্রান্ত নথির উল্লেখ করে ফ্র্যাকচার না হওয়ার দাবি করছেন এবং তদন্তের কথা জানাচ্ছেন, অন্যদিকে ২০২১ সালের নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত নথিতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ফলে নতুন করে তদন্ত হলে সেই নথি, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য এবং ২০২১ সালের ঘটনাক্রমের মধ্যে কীভাবে বিষয়টি দেখা হয়, সেটিই এখন নজরে থাকবে।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আবহেই এই পুরনো ঘটনা নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
