আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্যবসায়ী সমিতির সভাঘরে এদিন কামতাপুরী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিচয়ের দাবিকে সামনে রেখে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর নেতৃত্ব, সামাজিক কর্মী, ভাষা আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ একাধিক গণসংগঠনের সদস্যদের উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সুরেশ চন্দ্র রায়, বজলে রহমান, সুজন বর্মন-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও আন্দোলনের নেতৃত্ব। সভা থেকে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কামতাপুরী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সরব হন বক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, কামতাপুরী ভাষা উত্তরবঙ্গের বহু জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ এবং দীর্ঘদিন ধরেই এই ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি উঠে আসছে।
বক্তারা দাবি করেন, কামতাপুরী কোনও একক জাতিগত গোষ্ঠীর ভাষা নয়; বরং রাজবংশী, খেন, কালিতা, তেলি, মালি, ধিমাল-সহ বৃহত্তর অঞ্চলের বহু সম্প্রদায়ের সম্মিলিত ভাষাগত পরিচয়। তাই ভাষার স্বীকৃতিকে কোনও নির্দিষ্ট জাতিগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার প্রচেষ্টার সমালোচনা করা হয় সভা থেকে।
এদিনের আলোচনায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বার্তা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করেন উপস্থিত নেতৃত্ববৃন্দ। তাঁদের বক্তব্য, “রাজবংশী ভাষা” নামে ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা বৃহত্তর কামতাপুরী অঞ্চলের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও অংশীদারিত্বকে উপেক্ষা করতে পারে। এর ফলে সামাজিক বিভাজন আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।
সভা থেকে আরও জানানো হয়, ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে এবং ভবিষ্যতেও এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বক্তারা সরকারের কাছে আহ্বান জানান, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও বৃহত্তর জনসমাজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে কামতাপুরী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।
সভা শেষে আন্দোলনের পক্ষ থেকে ঐক্য, সম্প্রীতি ও বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিচয় রক্ষার বার্তাও তুলে ধরা হয়।

