অষ্টম তফসিলে কামতাপুরী ভাষা অন্তর্ভুক্তির দাবি ফালাকাটায়

লিখেছেন: তামিম আখতার (লেখক আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং কোচবিহারের বাসিন্দা। তিনি নিয়মিত সমসাময়িক রাজনীতি ও সামাজিক বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখি করেন)।

MD 360 NEWS
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্যবসায়ী সমিতির সভাঘরে এদিন কামতাপুরী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিচয়ের দাবিকে সামনে রেখে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।  সভায় বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর নেতৃত্ব, সামাজিক কর্মী, ভাষা আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ একাধিক গণসংগঠনের সদস্যদের উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সুরেশ চন্দ্র রায়, বজলে রহমান, সুজন বর্মন-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও আন্দোলনের নেতৃত্ব।  সভা থেকে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কামতাপুরী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সরব হন বক্তারা।  তাঁদের বক্তব্য, কামতাপুরী ভাষা উত্তরবঙ্গের বহু জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ এবং দীর্ঘদিন ধরেই এই ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি উঠে আসছে।

বক্তারা দাবি করেন, কামতাপুরী কোনও একক জাতিগত গোষ্ঠীর ভাষা নয়; বরং রাজবংশী, খেন, কালিতা, তেলি, মালি, ধিমাল-সহ বৃহত্তর অঞ্চলের বহু সম্প্রদায়ের সম্মিলিত ভাষাগত পরিচয়।  তাই ভাষার স্বীকৃতিকে কোনও নির্দিষ্ট জাতিগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার প্রচেষ্টার সমালোচনা করা হয় সভা থেকে।

এদিনের আলোচনায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বার্তা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করেন উপস্থিত নেতৃত্ববৃন্দ।  তাঁদের বক্তব্য, “রাজবংশী ভাষা” নামে ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা বৃহত্তর কামতাপুরী অঞ্চলের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও অংশীদারিত্বকে উপেক্ষা করতে পারে।  এর ফলে সামাজিক বিভাজন আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।

সভা থেকে আরও জানানো হয়, ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে এবং ভবিষ্যতেও এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।  বক্তারা সরকারের কাছে আহ্বান জানান, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও বৃহত্তর জনসমাজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে কামতাপুরী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।

সভা শেষে আন্দোলনের পক্ষ থেকে ঐক্য, সম্প্রীতি ও বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিচয় রক্ষার বার্তাও তুলে ধরা হয়।

Share This Article