বাংলায় পা রাখতেই নিজের মেজাজ বুঝিয়ে দিলেন ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ অজয় পাল শর্মা। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটের ডিউটিতে এসে সোজা তৃণমূল প্রার্থীর অন্দরমহলে ঢুকে পড়লেন এই পুলিশ পর্যবেক্ষক। শুধু ঢোকাই নয়, আঙুল উঁচিয়ে প্রার্থীকে যেভাবে তিনি হুঁশিয়ারি দিলেন, সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কোনো রকম আপস নয়, বরং সোজাসাপ্টা ভাষায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে আইন মেনে চলার কড়া নির্দেশ দিচ্ছেন পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। প্রার্থীর বাড়িতে উপস্থিত বাকিদের সামনেই উঁচিয়ে বলতে শোনা যায়, “জাহাঙ্গিরকে শুধরে যেতে বলুন, না-হলে পরে কাঁদতে হবে।” পুলিশের এই রণংদেহি ‘সিংহাম’ অবতার দেখে সেই সময় ঘরে উপস্থিত সকলে কার্যত থমথমে হয়ে যান। ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ৷
অজয় পাল শর্মা উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের ২০১১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে ১০০-র বেশি এনকাউন্টারে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে অপরাধী মহলে তিনি ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট‘ হিসেবে পরিচিত। পেশায় একসময় দন্তচিকিৎসক থাকলেও, বর্তমানে পুলিশের পোশাকে তিনি এক ‘দাবাং‘ অফিসার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় অবাধ ভোট নিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই চুপ থাকেননি তৃণমূল নেত্রী লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি সমাজমাধ্যমে (X) এ সরাসরি আক্রমণ শানান আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে। কড়া ভাষায় মহুয়া লেখেন, “আমার ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বাবুয়া… আমরা সেই লোক যারা কায়দা মতো আপনাদের ছোট ফান্টা আর বড় ফান্টারও চিকিৎসা করে দিই! হিরোগিরিটা একটু সামলে দেখান।” রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এখানে ‘ছোট ফান্টা’ ও ‘বড় ফান্টা’ বলতে তিনি আসলে যোগী আদিত্যনাথ এবং নরেন্দ্র মোদীকেই নিশানা করেছেন। পুলিশের এই ‘দাবাং’ মেজাজকে মহুয়া যে মোটেও ভালোভাবে নিচ্ছেন না, তাঁর এই পোস্টেই তা পরিষ্কার।
