২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। আর এই ভোটের ঠিক দু’দিন আগে আগামীকাল, ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত হতে চলেছে আপিল ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত বা দ্বিতীয় ভোটার তালিকা। যারা ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে আবেদন করেছিলেন, আগামীকালকের তালিকার মাধ্যমেই ঠিক হবে তাঁদের মধ্যে কতজন ভোট দিতে পারবেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো বুধবার, ২২ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া নামের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। মাত্র ১৩৯ জন আবেদনকারী তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনাল নথিপত্র খতিয়ে দেখে ওই ১৩৯ জনের নাম তালিকায় তোলার নির্দেশ দিয়েছিল। এবার দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নতুন তালিকায় আরও কতজনের নাম ওঠে, এখন সেটাই দেখার।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতে, যাঁদের নাম এই তালিকায় উঠিছিল, তাঁরা ২৩ এপ্রিল অর্থাৎ বাংলার নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট দিতে পেরেছে। সেদিন পাশাপাশি, কাদের নাম ট্রাইব্যুনালের থেকেও বাদ গেল, সেই তালিকাও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে।
সূত্রে জানা গেছে, SIR এর ফলে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যায় প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষের। এই বিশাল সমস্যার সমাধানে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে পৌঁছায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে বিশেষ ‘আপিল ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে নাম ফেরানোর জন্য জমা পড়েছিল প্রায় ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার আবেদন।
সময় অত্যন্ত কম থাকায় এই কয়েক লক্ষ আবেদনের সবকটি খতিয়ে দেখা ট্রাইব্যুনালের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুততার সাথে প্রায় ৬৫০টি মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। এই ৬৫০ জনের মধ্যে নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই করার পর মাত্র ১৩৯ জনের নাম চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রথম দফার ভোটে এই ১৩৯ জনই শেষ পর্যন্ত ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পান।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই বিচার প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে। সেই অনুযায়ী আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আগামীকাল অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল আরও একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে ট্রাইব্যুনাল।

