আর কিছুদিন পরেই জানা যাবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ, কত দফায় ভোট হবে এবং কবে প্রকাশিত হবে ফলাফল। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই।উপর মহল থেকে সাধারণ জনগণ, সর্বত্রই এক টানটান উত্তেজনা। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বহু মানুষের নাম অবৈধভাবে বাদ পড়া এবং বড় অংশের নাম ‘বিচারাধীন’ থাকায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির সবাই যথেষ্ট চিন্তিত।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘বিচারাধীন’ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকায় নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে এ মুহূর্তে রাজ্যে।
এদিন এই বিষয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ ও বিধায়ক অধীর রঞ্জন চৌধুরী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৬০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়ে কীভাবে নির্বাচন সম্ভব? বলা হয়েছে, ‘সাপপ্লিমেন্টারি লিস্টে’ বিচারাধীনদের নাম আসবে, কিন্তু সবার নাম তো আর আসবে না! তাহলে তাদের বাদ দিয়ে ভোট কীভাবে সম্ভব? ভোট যেখানে প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার।” তিনি এই বিষয়ে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ৪ মার্চ থেকে রাজ্যের বিরোধী দল বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআইএম এর প্রবীণ নেতা বিমান বসু বলেন, “যাদের নাম বাদ গেছে, তাদের কি যথাযথ কারণ দর্শানো হয়েছে? যদি কারণই না জানানো হয়, তবে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন কীভাবে? বৈধ ভোটাররা বাদ পড়বেন না, তার গ্যারান্টি কে দেবে?” পাশাপাশি, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের অভিযোগ, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য নির্বাচন এখন নির্যাতনে পরিণত হয়েছে”।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোটার তালিকা নিয়ে সরব হয়েছেন। তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে যে গাফিলতি ও বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তার জবাবদিহি চেয়ে তিনি সরব। আজ তাঁর ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে অবস্থানের দ্বিতীয় দিন। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার দিকে এতো বড় ত্রুটি ও জল্পনার মাঝখানে দাঁড়িয়ে কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রতিবেদনে: আনিসা জেবা

