পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট শুরু হতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। কিন্তু রাজ্যের প্রায় ২৭ লাখ মানুষের ভোট দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এই মানুষগুলো কি শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন? এই প্রশ্ন এখন গোটা রাজ্যে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতার জোকাতে ১৯টি বিশেষ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গড়া হয়েছিল। কথা ছিল, সেখানে বিচারপতিরা বাদ পড়া ভোটারদের নথিপত্র যাচাই করে তাঁদের ভোটের ছাড়পত্র দেবেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেখানে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, কোনো আইনজীবীকেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। পুরো এলাকাটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় রয়েছে। এমনকি কোনো শুনানি না করেই কেবল কম্পিউটারে নথিপত্র দেখে আবেদন গ্রহণ বা বাতিল করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ কার কাছে যাবেন বা কীভাবে নাম ফেরাবেন, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এই অব্যবস্থার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পযর্ন্ত। এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়াটি আদালতের নির্দেশ মেনে চলছে না। যেভাবে মানুষ ও আইনজীবীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তাকে আদালতের অবমাননা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুত্বর যে, প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন তিনি নিজে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে এই সমস্যার জবাব চাইবেন।
কমিশনের সূত্র জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল কীভাবে কাজ করবে তার নিয়মাবলী (SOP) অবশেষে তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকেই যোগ্য আবেদনকারীদের শুনানির নোটিস পাঠানো শুরু হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে সময় নিয়ে। আজ ২১শে এপ্রিল, আর প্রথম দফার ভোট ২৩শে এপ্রিল। হাতে থাকা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেদন যাচাই করে তালিকা প্রকাশ করা কি আদৌ সম্ভব।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, আজ ২১শে এপ্রিলই হলো প্রথম দফার ভোটের জন্য ছাড়পত্র পাওয়ার শেষ দিন। আজ যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র পাবে, কেবল তাঁরাই পরশুদিন ভোট দিতে পারবেন।
যদিও সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২১ ও ২৭ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল যাঁদের ‘যোগ্য’ হিসেবে রায় দেবে, তাঁরাই আসন্ন ভোটে অংশ নিতে পারবেন। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে কড়া অবস্থান নিয়ে জানানো হয়েছে যে, যথাযথ নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারের বক্তব্য শোনা ছাড়া কোনোভাবেই কারও নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।
প্রশাসনিক কোনো ভুলের কারণে যাতে একজন বৈধ ভোটারও তাঁর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এই বিশেষ বেঞ্চ।

