মোদির ভবিষ্যৎবাণীই কি সফল? তৃণমূলের হাতছাড়া মহিলা ভোটব্যাঙ্ক!

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
2 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

এবার বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টি করল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।  রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে তারা।  অন্যদিকে, গত তিনবারের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) বড়সড় পতনের মুখে দাঁড়িয়ে মাত্র ৮১টি আসনে থমকে গিয়েছে।  এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখা গিয়েছে খোদ ভবানীপুর কেন্দ্রে, যেখানে তৃণমূল নেত্রী তথা‌ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে প্রায় ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির এই বিপুল জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে মহিলা ভোটব্যাঙ্কের বড়সড় রদবদল।  এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘কন্যাশ্রী’র মতো প্রকল্পগুলো তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল।  কিন্তু এবারের নির্বাচনে দেখা গেল, ভাতার রাজনীতির চেয়েও নারী সুরক্ষা এবং বিচার পাওয়ার দাবি ভোটারদের কাছে অনেক বেশি অগ্রাধিকার পেয়েছে।  বিশেষ করে সন্দেশখালি এবং আরজি কর হাসপাতালের ঘটনাগুলো সাধারণ নারীদের মনে যে গভীর ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছিল, তার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বাক্সে।  পানিহাটি কেন্দ্রে আরজি করের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথের বিশাল জয় ছিল এই নারী নিরাপত্তা ও বিচারের দাবির এক জ্বলন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি রাজ্যে প্রায় ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যেখানে তৃণমূল পেয়েছে ৪০.৮০ শতাংশ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন, দেশের মহিলারা যেখানে বিপুল ভোট দেন, সেখানেই বিজেপি জয়ী হয়।  বাংলার এবারের ফলাফল যেন প্রধানমন্ত্রীর সেই দাবিকেই বাস্তব রূপ দিল।  একদিকে নারী সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে তৃণমূলের ১,৫০০ টাকার বিপরীতে বিজেপির ৩,০০০ টাকার ভাতার অঙ্গীকার এই দুইয়ের মেলবন্ধনে মহিলা ভোটারদের একটি বড় অংশ তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি বিশেজ্ঞ মহলের।

তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনামলে চলা ‘দুর্নীতি ও অপশাসন’ এর বিরুদ্ধে মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।  যদিও বাকি দলগুলোর মধ্যে কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি করে এবং সিপিআই(এম) ও আইএসএফ ১টি করে আসন পেয়েছে, কিন্তু তারা বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।  বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আরজি কর কাণ্ডটি এই নির্বাচনে একটি “রেফারেন্ডাম” বা গণভোটের মতো কাজ করেছে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।