নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও গুরুতর হেনস্থার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ বন্দি সঞ্জয় কুমারের পুত্র বন্দি ভাগীরথ সাই (২৫)। শনিবার সন্ধ্যায় নাটকীয় টানাপোড়েনের পর সাইবারাবাদের পেট বশীরবাদ থানায় আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পকসো (POCSO) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) র একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, যথাবিহিত জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডাক্তারি পরীক্ষার পর অভিযুক্তকে মেদচালের স্থানীয় আদালতে হাজির করা হবে।
সূত্রের খবর, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুন মাসে। সোশ্যাল মিডিয়া তথা ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে বছর সতেরোর এক কিশোরীর সঙ্গে আলাপ হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পুত্রের। অভিযোগ, পরিচয় ক্রমে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নিলে কিশোরীকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন ভাগীরথ। নাবালিকার পরিবারের দাবি, প্রায় সাত-আট মাস ধরে চলা এই সম্পর্কের মাঝেই মেয়েটির ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকী জোরপূর্বক মদ্যপান করানোর চেষ্টা এবং একাধিকবার যৌন হেনস্থা করা হয় বলেও অভিযোগ।
চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে হায়দরাবাদের পেট বশীরবাদ থানায় এই মর্মে প্রথম অভিযোগ দায়ের করে নাবালিকার পরিবার। প্রাথমিকভাবে শ্লীলতাহানির মামলা রুজু হলেও, পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করার পর মামলার গুরুত্ব একধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যায়। পুলিশ তদন্তে পকসো আইনের অত্যন্ত কঠোর গুরুতর যৌন নির্যাতন (Aggravated Penetrative Sexual Assault) এর ধারা যুক্ত করে।
ঘটনার পর থেকেই হদিস মিলছিল না ২৫ বছর বয়সী এই যুবকের। গ্রেফতারি এড়াতে তিনি গা ঢাকা দিলে সাইবারাবাদ পুলিশ তাঁর খোঁজে পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করে। অভিযুক্তের কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর) এবং ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) অ্যাড্রেস খতিয়ে দেখে শুরু হয় তল্লাশি। দেশ ছাড়ার পথ বন্ধ করতে তড়িঘড়ি জারি করা হয় লুক আউট সার্কুলার।
জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে তেলঙ্গানার করিম নগর থানায় নাবালিকার পরিবারের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা এফআইআর দায়ের করেন মন্ত্রীর ছেলে। তাঁর দাবি, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই মেয়েটির পরিবার তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। বিয়ে না করলে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো এবং আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এমনকী ভয়ের চোটে তিনি মেয়েটির বাবাকে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন মন্ত্রী-পুত্র।
শনিবার এই হাইপ্রোফাইল মামলার মোড় ঘোরে যায় অন্যদিকে। এদিন শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত চলা শুনানিতে তেলাঙ্গানা হাইকোর্ট ভাগীরথের আগাম জামিনের আবেদন জরুরি ভিত্তিতে খারিজ করে দেয়। এদিন আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে অভিযুক্তকে কোনওরকম অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ দেওয়া যাবে না। তাই আর দেরি না করে আজ শনিবার সন্ধ্যায় আইনজীবীদের পরামর্শে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ভাগীরথ।
ছেলের এই গ্রেফতারি এবং আইনি সংকট নিয়ে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কুমার স্বয়ং। ‘সত্যমেব জয়তে’ স্লোগান দিয়ে একটি প্রকাশ্য বিবৃতিতে তিনি জানান, আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান রেখেই তিনি আইনজীবীদের মাধ্যমে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
তিনি এছাড়াও আরও লিখেন নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ , আমি আগেও বলেছি, সে আমার নিজের ছেলেই হোক বা দেশের কোনও সাধারণ নাগরিক আইনের চোখে সবাই সমান। আমাদের সকলকেই দেশের আইন মেনে চলতে হবে। যদিও মন্ত্রী, পুত্র লাগাতার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন বলে জানান মন্ত্রী স্বয়ং নিজেই।

