অবশেষে ভারতে বন্ধ করে দেওয়া হলো সাম্প্রতিক সময়ে তুমুল চর্চায় থাকা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) র অফিশিয়াল এক্স (পূর্বের টুইটার) একাউন্ট। গত ১৬ মে অ্যাকাউন্টটি খোলার মাত্র চার দিনের মাথায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট আইনি নোটিশ বা লিগ্যাল ডিম্যান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে এক্স কর্তৃপক্ষ ভারতে এই হ্যান্ডেলটি (@CJP_2029) ব্লক বা উইথহেল্ড (Withheld) করে রেখেছে। বর্তমানে ভারত থেকে এই আইডিতে প্রবেশ করলে স্ক্রিনে ‘অ্যাকাউন্ট উইথহেল্ড’ লেখা দেখা যাচ্ছে।
মূলত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানির সময় তিনি মন্তব্য করেন, দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ আরশোলার মতো আচরণ করছেন। যারা কোনো মূল পেশায় জায়গা না পেয়ে সাংবাদিক, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার কিংবা তথ্যের অধিকার কর্মী (RTI অ্যাক্টিভিস্ট) হিসেবে কাজ শুরু করছেন এবং অন্যদের আক্রমণ করছেন। দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যুবসমাজ ও নেটিজেনদের একাংশ একে তরুণ প্রজন্মের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে গণ্য করেন। এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদের এক অভিনব ও ব্যঙ্গাত্মক বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘আরশোলা জনতা পার্টি’।
যদিও পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি পরে বিষয়টি নিয়ে জানান যে, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশায় আসা এবং সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সমালোচনা করতে চেয়েছিলেন, সামগ্রিক যুবসমাজকে ছোট করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তবে প্রধান বিচারপতির এই সাফাইতেও নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ স্তিমিত হয়নি, বরং এই আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠে। এই অভিনব ফ্রন্টটির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী যুবক অভিজিৎ দীপক, যিনি রাজনৈতিক প্রচার ও সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিতে অভিজ্ঞ এবং এর আগে আম আদমি পার্টির (AAP) হয়ে কাজ করেছেন। গত ১৬ মে তিনি এক্স হ্যান্ডলে একটি গুগল ফর্ম পোস্ট করে এই দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ব্যাপক সাড়া মেলায় মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটও তৈরি করে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টির মূল ভাবাদর্শ হলো ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং অলসতা। এটি কোনো জাতিবিদ্বেষী সংগঠন নয়, বরং মহাত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব আম্বেদকর ও জওহরলাল নেহরুর আদর্শকে পাথেয় করে প্রগতিশীল পথে চলতে বদ্ধপরিকর। এছাড়াও দলটির পক্ষ থেকে সদস্যপদ নেওয়ার জন্য ৪টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এরজন্য আবেদনকারীকে কর্মহীন হতে হবে, শারীরিক অলসতা থাকলেও চিন্তাভাবনায় সক্রিয় হতে হবে, বাথরুম ব্রেকসহ দৈনিক অন্তত ১১ ঘণ্টা ইন্টারনেটে একটিভ থাকতে হবে এবং যেকোনো রাষ্ট্রীয় বিষয়ে তীক্ষ্ণ ও যৌক্তিক সমালোচনা করার দক্ষতা থাকতে হবে।
মাত্র ৪ দিনের পথচলায় এই প্রতীকী রাজনৈতিক ফ্রন্টটি সমাজমাধ্যমে অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মাত্র চার দিনের মাথায় ইন্সটাগ্রামে দলটির ফলোয়ার সংখ্যা ১৩.৮ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৩৮ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অফিশিয়াল ইন্সটাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যাকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।
তবে এক্স হ্যান্ডেলটি ব্লক হওয়ার পর দমে যাননি আন্দোলনকারীরা। ‘আরশোলারা মরে না‘ স্লোগানকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই তারা @Cockroachisback নামে নতুন একটি বিকল্প এক্স একাউন্ট খুলেন।

