যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রকাশিত একটি শিরোনামের প্রতিবাদে কলকাতায় আনন্দবাজার পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখাল একদল গেরুয়া বসনধারী ব্যক্তি। মঙ্গলবার বিক্ষোভ চলাকালীন সংবাদপত্রের অফিস ভবনের দেওয়ালে গেরুয়া রং লাগানো হয়। ভবনের মূল প্রবেশপথেও গেরুয়া উত্তরীয় ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের একাংশকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, একটি সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনামে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দ ব্যবহার করে গেরুয়া রং এবং তার সঙ্গে যুক্ত সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় ভাবাবেগকে অসম্মান করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে গত ২০ আগস্টের উত্তেজনার পর। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একটি প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।
এর পরের দিন আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনামে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়। এই শব্দচয়ন নিয়েই আপত্তি জানাতে শুরু করেন বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সদস্যরা।
তাঁদের বক্তব্য, ‘গেরুয়া’ শব্দটি একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীকী রঙ হওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতি ও সন্ন্যাস-ঐতিহ্যের সঙ্গেও যুক্ত। ফলে ওই শব্দের সঙ্গে ‘গুন্ডামি’ শব্দটি ব্যবহার করা আপত্তিকর।
এই শিরোনাম নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ২৮ আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আনন্দবাজারের ওই শিরোনামের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ ধরনের শিরোনাম প্রত্যাহার করতে হবে এবং গেরুয়া শব্দকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
এর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের উদ্দেশে নানা ধরনের পোস্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়।
এই বিতর্কের মধ্যেই ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এফআইআরে কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। তবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ তাৎক্ষণিক কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী বিবেকানন্দের মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহ্যের ভূমি। তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া রং নিয়ে কোনও ধরনের ‘কুমন্তব্য’ তাঁরা মেনে নেবেন না।
এই ঘটনা নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শিরোনাম নিয়ে তাদের অবস্থানও নতুন করে জানানো হয়নি।

