দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-সহ বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভের আগে ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখা নিয়ে হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে বিধিনিষেধ জারি করা হলেও রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অসুবিধা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ শুক্রবার এই মামলার শুনানি করে। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির আগে দিল্লিগামী একাধিক ট্রেন বাতিল করা এবং দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। দিল্লির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের জন্য বহু মানুষ ট্রেন ও মেট্রোর উপর নির্ভর করেন। প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে গুরুগ্রাম, গ্রেটার নয়ডা এবং দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ জারি করতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সমস্ত ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের অসুবিধার মধ্যে ফেলা উচিত নয় বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, শনিবার ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত ভাবে চালু রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি, দিল্লির যে সব রাস্তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলিও পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছে আদালত। সংশোধিত নির্দেশিকা জারি করে সাধারণ মানুষকে তা জানাতে হবে, যাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অযথা সমস্যায় পড়তে না হয়।
শুনানির সময় কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন। রেল ও মেট্রো পরিষেবা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার আশ্বাসও দেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের জন্য বিকল্প কোনও নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা যায় কি না, যেখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে, তা বিবেচনা করার কথাও জানিয়েছে আদালত।
শনিবারের কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। অন্য দিকে, ট্রেন বাতিল ও মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
