আদালতের নির্দেশ, বেঁধে দেওয়া সময়সীমা কোনও কিছুতেই আত্মসমর্পণ করলেন না স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের প্রাক্তন তথা অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টের মধ্যে তাঁর আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আদালতে হাজির হননি তিনি। বরং হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রশান্ত। এই পরিস্থিতিতে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সরকারি বেতন বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে নজর রয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর প্রশান্ত বর্মনের মামলার শুনানিতে কড়া অবস্থান নেয় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত নির্দেশ দেয়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর সরকারি বেতন বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয় রাজ্যকে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রশান্তের আত্মসমর্পণ না করায় এবার আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার প্রশ্ন সামনে এসেছে।
আত্মসমর্পণ না করে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন প্রশান্ত বর্মন। সূত্র মতে খবর, আগামী সপ্তাহে মামলাটির শুনানি হতে পারে। তবে শুনানির নির্দিষ্ট দিন এখনও নিশ্চিত নয়।
প্রশান্তের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে তাঁর আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরে গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশের পরেও তাঁর নাগাল পায়নি পুলিশ। এবার হাইকোর্টের নতুন নির্দেশের পরেও আত্মসমর্পণ না করায় মামলাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউ টাউনের যাত্রাগাছি এলাকার একটি খালপাড় থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়ায় রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। ঘটনার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ বলে তদন্তকারীদের দাবি।
প্রথমে বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত। পরে সেই জামিনের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। হাইকোর্ট আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলে। এরপর সুপ্রিম কোর্টও আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও তিনি পুলিশের নাগালের বাইরে থেকে যান।
এ বছরের ২৫ মে পথনিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ঘটনায় প্রশান্ত বর্মন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। অভিযোগ, নিউ টাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় তাঁর গাড়ির ধাক্কায় এক পথচারী আহত হন। পরের দিন তাঁকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়েছিল।
তবে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় প্রয়োজনীয় নথি আদালতে সময়মতো পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে ওই মামলায় তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগোয়নি। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে ফের তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
এছাড়াও এর আগে প্রশান্ত বর্মন দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও সরকারি বেতন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে আগেও কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্ন উঠেছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী সিআইডির তদন্ত এবং রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
৬ অক্টোবরের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর বেতন বন্ধ এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় এবার রাজ্য ও তদন্তকারী সংস্থা কী পদক্ষেপ করে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মামলাকারী প্রসূন মৈত্র জানিয়েছেন, আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার বিষয়টি তুলে ধরা হবে। তাঁর বক্তব্য, নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা আদালতকে জানানো প্রয়োজন।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
