ভুটানে হড়পা বানের জেরে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসমের ধুবড়ি জেলায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে কেন্দ্রীয় জল কমিশন। ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ভুটানের শিনতাফু হ্রদে হিমবাহ হ্রদজনিত আকস্মিক বন্যা বা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF)-এর খবর উল্লেখ করা হয়েছে। এর জেরে সংকোশ নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও পর্যবেক্ষণ বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভুটানের পুনাৎসাংছু নদীর উপরের অংশে হড়পা বানের কারণে ভারতের দিকে জলস্তর আচমকা বেড়ে যেতে পারে। এই জলপ্রবাহ নদীর ভাটির দিকে নেমে আসবে। আগামী ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই জল ভারত-ভুটান সীমান্তে পৌঁছতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিশন।
এই পরিস্থিতিতে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকের বারোবিশা এবং সংকোশ নদী সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংকোশ ফরেস্ট ভিলেজ, সংকোশ চা বাগান, চেংমারি, ভল্কা বাজার-১ ও ভল্কা বাজার-২-সহ নদীর আশপাশের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি, অসমের ধুবড়ি জেলার পরিস্থিতির উপরও নজর রাখা হচ্ছে। সংকোশ নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে গেলে নদী সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দুই জেলার প্রশাসনকে সতর্ক থাকার, নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হিমবাহের গলিত জল জমে তৈরি হওয়া কোনও হ্রদ থেকে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল বেরিয়ে এলে তাকে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা GLOF বলা হয়। এই ধরনের ঘটনায় অল্প সময়ের মধ্যে নদীতে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসতে পারে। ফলে নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে গিয়ে ভাটির দিকে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এদিকে, সংকোশ নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওরাং। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ভুটানে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার জেরে আগামী এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে সংকোশ নদী সংলগ্ন এলাকায় জল ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই কুমারগ্রাম ও সংকোশের আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন বিধায়ক।
তবে কেন্দ্রীয় জল কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে আলিপুরদুয়ার ও ধুবড়ির কোন কোন এলাকা সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। নদীর জলস্তর কতটা বাড়তে পারে বা ইতিমধ্যে কোনও এলাকা প্লাবিত হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ ও সরকারি সতর্কবার্তা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা জরুরি।

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
