দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার মাটি থেকে ফের একবার কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার বারুইপুরের এক জনসভা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) প্রসঙ্গ টেনে আনলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, শিক্ষার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে “দেশবিরোধী” শক্তির বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিনের সভায় মোদি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে অভিযোগ করেন যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেওয়ালে এখন দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যে বিশ্ববিদ্যালয় একসময় বিশ্বজুড়ে ভারতের নাম উজ্জ্বল করত, আজ সেখানে পড়ুয়াদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ছাত্রদের পড়াশোনার বদলে রাস্তায় নামতে বাধ্য করা হচ্ছে।”
তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে খোদ সরকারের নাকের ডগায় ‘অরক্ষিত’, সেখানে বাংলার লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব এই সরকার নেবে কোন ভরসায়?
প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণের জবাবে পাল্টা গর্জে উঠতে দেরি করেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এ তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী পড়ুয়াদের নিয়ে এই ধরণের মন্তব্য করা কি প্রধানমন্ত্রীর পদের সৌজন্যবোধের মধ্যে পড়ে? মমতা মনে করিয়ে দেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব এনআইআরএফ (NIRF) র্যাঙ্কিংয়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর প্রথম সারিতে থাকে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘যে শ্রেষ্ঠত্বের কেন্দ্রকে আপনাদের সরকারই সম্মান দেয়, তাকেই এখন অপমান করছেন কেন?’’ মমতার মতে, পড়ুয়াদের প্রশ্ন করার ক্ষমতা থাকা অরাজকতা নয়, বরং এটাই প্রকৃত শিক্ষা ও চলন্ত গণতন্ত্রের পরিচয়।
তৃণমূল নেত্রী এখানেই থেমে থাকেননি, অরাজকতার প্রশ্নে তিনি পাল্টা দিল্লির ‘বুলডোজার রাজ’ এবং কৃষক মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। মমতার দাবি, প্রকৃত অরাজকতা হল কৃষকদের কণ্ঠরোধ করা, ধর্ষকদের রাজনৈতিক সুবিধার্থে মুক্তি দেওয়া এবং মণিপুর জ্বললেও নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকা। প্রধানমন্ত্রীর ‘দেশবিরোধী’ তত্ত্বকে নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘শ্রী অরবিন্দ এবং জাতীয়তাবাদী নেতাদের অনুপ্রেরণায় গড়া এই প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত করবেন না। বাংলার মেধাকে হেয় করার চেষ্টা করবেন না।’’ ভোটের আগে এই শব্দ ব্যবহারের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

