শনিবার দেশজুড়ে বড়সড় শোরগোল পড়ে গেল। আজ রাত ঠিক সাড়ে আটটায় দেশের মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই খবর চাউর হতেই দেশজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন— কী বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী? সচরাচর মোদি যখনই রাতে দেশবাসীর মুখোমুখি হন, তখনই বড় কোনও বদল বা নতুন ঘোষণা আসে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট একটু অন্যরকম।
গতকালই সংসদে বড় ধাক্কা খেয়েছে মোদি সরকার। লোকসভায় ‘নারী সংরক্ষণ বিল’ পাশ করাতে পারেনি বিজেপি সরকার। ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকায় বাতিল হয়ে গিয়েছে সংবিধান সংশোধনী বিলটি। এই সংসদীয় ব্যর্থতার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জানা যাচ্ছে, সংসদে বিলটি আটকে যাওয়ার পর মোদি সম্ভবত এবার সরাসরি জনগণের কাছে যাওয়ার কৌশল নিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের জোরালো ধারণা, তিনি আজ রাতে দেশবাসীর সামনে বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী হয়তো বোঝাতে চাইবেন যে, তাঁর সরকার মহিলাদের আসন নিশ্চিত করতে ও তাঁদের ক্ষমতায়নে সবটুকু চেষ্টা করলেও বিরোধীদের নেতিবাচক রাজনীতির কারণে তা থমকে গেল। এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি সরাসরি দেশের কোটি কোটি মহিলার আবেগ ছুঁতে চাইবেন এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে একটা বড়সড় জনমত গড়ে তোলার ডাক দেবেন।
তবে মোদির রাজনীতি মানেই যেহেতু বড় কোনো চমক, তাই অনেকে মনে করছেন তিনি কেবল বিরোধীদের আক্রমণ করেই থেমে থাকবেন না। সংসদে বিল পাশ না হওয়ায় সরকার কি এবার অর্ডিন্যান্স বা অন্য কোনো বিকল্প আইনি পথে হাঁটবে? এমন কোনো বড় ঘোষণা আজ রাতেই আসতে পারে যা বিরোধীদের রণকৌশলকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেবে।
পাশাপাশি, এই ভাষণে কি কেবল রাজনীতির কথাই থাকবে নাকি দেশের সুরক্ষা বা অন্য কোনো বড় জাতীয় সংকট নিয়েও প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট রহস্য দানা বেঁধেছে। এর আগে নোটবন্দি বা লকডাউনের মতো বড় খবরগুলো তিনি এভাবেই রাতের ভাষণে দিয়েছিলেন। ফলে একদিকে যেমন সংসদের বিল নিয়ে টানটান উত্তেজনা কাজ করছে, অন্যদিকে তেমনি বড় কোনো প্রশাসনিক বদল বা জাতীয় ঘোষণা আসার কথা।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) থেকে এখনও কিছু খোলসা করা হয়নি, তবে পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী প্রস্তুতি তুঙ্গে। আজ রাত ৮:৩০ এ টিভির পর্দায় মোদি ঠিক কী মোড় ঘোরান, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

