চাকরি-দুর্নীতি নয়, ভোটার তালিকায় ‘নাম বাদ’ এখন বাংলার প্রধান নির্বাচনী ইস্যু

Anisa Zeba
By
Anisa Zeba
রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ভাবেন ও লেখেন। সমাজ, রাজনীতি এবং চলমান ঘটনাবলির উপর নজর রেখে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তুলে ধরাই তাঁর আগ্রহ। বর্তমান সময়ের...
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

হাতে আর মাত্র তিন দিন বাকি, ২৩শে এপ্রিল থেকেই বাংলায় শুরু হচ্ছে প্রথম দফার ভোট।  পাড়ায় পাড়ায় এখন রাজনৈতিক দলগুলোর জোর প্রচার।  কিন্তু এবারের নির্বাচনে বড় বড় প্রতিশ্রুতির চেয়েও বাদ যাওয়া ভোটারদের একাংশের মধ্যে ঘুরছে একটা বড় দুশ্চিন্তা ‘আমার নামটা ভোটার তালিকায় থাকবে তো?’ দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে এস‌আইআর এর ফলে প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের এলাকায় ২৩শে এপ্রিল প্রথম দফার ভোট রয়েছে, তাঁদের নথিপত্র যদি আপিল ট্রাইব্যুনাল আগামী ২১শে এপ্রিলের মধ্যে যাচাই করে তালিকায় নাম তুলে দেয়, তবেই তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে, যাঁদের এলাকায় ২৯শে এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট, তাঁদের জন্য সময়সীমা ২৭শে এপ্রিল পর্যন্ত।  অর্থাৎ, নিজের এলাকার ভোটের ঠিক দুই দিন আগে পর্যন্ত যদি ট্রাইব্যুনাল থেকে নামের অনুমোদন পাওয়া যায়, তবেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনাল থেকে যাঁদের নাম সবুজ সংকেত পাবে, তাঁদের জন্য নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট’ বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করবে।  তবে মনে রাখতে হবে, যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে বাতিল হয়ে যাবে, তাঁরা এবারের নির্বাচনে কোনোভাবেই ভোট দিতে পারবেন না।  বর্তমানে দ্রুত গতিতে ট্রাইব্যুনালের কাজ চলছে।

বিগত কয়েকবছর নির্বাচনের লড়াইটা শুরু হত একেবারে অন্য মেজাজে।  তখন চায়ের দোকান থেকে রাজনৈতিক মঞ্চ সব জায়গায় তপ্ত আলোচনা চলছিল চাকরির, দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তা আর বেকারত্বের জ্বালা নিয়ে।  যেখানে হবার কথা শাসকদল তৃণমূল শাসনের হিসেব।  কিন্তু ভোটের দিন যত এগিয়ে এল, ঠিক তখনই ‘নাম বাদ’ ইস্যুটি যেন এক লহমায় পুরো দৃশ্যপট বদলে দিয়ে সব হিসেব ওলটপালট করে দিল।

সবচেয়ে অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার এই ঘটনাটি রাজ্যের রাজনীতিকে পরিষ্কার দু’ভাগে ভাগ করে দিয়েছে।  একদিকে রয়েছে বিজেপি, যারা বলছে দেশকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করতেই এই নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া দরকার।  কিন্তু ঠিক উল্টোদিকে তৃণমূল থেকে শুরু করে বাম-কংগ্রেস অর্থাৎ বিজেপি বাদে বাকি সব দলই এখন এই বাদ পড়া মানুষদের জন্য সরব হয়েছে।  তাদের মতে, নাম বাতিলের নামে আসলে সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

যদিও শাসকদল তৃণমূল এই ইস্যুটিকে সরাসরি মানুষের ‘অধিকার’ ও ‘পরিচয়’ রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, “এটি আর শুধু জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন নয়, বরং যাদের হঠাৎ করে পরবাসী তকমা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, সেইসব মানুষের মর্যাদা রক্ষার লড়াই।

Share This Article
রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ভাবেন ও লেখেন। সমাজ, রাজনীতি এবং চলমান ঘটনাবলির উপর নজর রেখে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তুলে ধরাই তাঁর আগ্রহ। বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সহজ ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন।