শুক্রবার লোকসভায় ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর, শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আধ ঘণ্টার এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী যেমন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, তেমনই আক্রমণাত্মক মেজাজে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে তুলোধোনা করেন। লোকসভায় আসন বাড়িয়ে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার যে স্বপ্ন কেন্দ্র দেখেছিল বিজেপি সরকার, বিরোধীরা সেই অধিকারকে গলা টিপে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অত্যন্ত কড়া ভাষা প্রয়োগ করে বলেন, “যারা নারীশক্তির কথা বলে বড় বড় ভাষণ দেয়, আজ তারাই সংসদে মা-বোনেদের অধিকারের ভ্রূণহত্যা করেছে।” তিনি সরাসরি কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), ডিএমকে (DMK) এবং সমাজবাদী পার্টির (SP) নাম নিয়ে তোপ দাগেন। মোদির দাবি, এই দলগুলি পরিকল্পিতভাবে জোট বেঁধে বিলটি রুখে দিয়েছে, যা দেশের কোটি কোটি নারীর ভবিষ্যতের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।
ভাষণের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে যথেষ্ট আবেগপ্রবণ দেখা যায়। মূলত বিলটি পাশ করাতে না পারার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি বলেন, “আমি আজ দেশের সমস্ত মা, বোন এবং কন্যাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। সরকার সবরকম চেষ্টা করা সত্ত্বেও এই ঐতিহাসিক সংস্কারটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।” তিনি এদিন জানিয়ে দেন, “ওরা পথ আটকাতে পারে, কিন্তু আমার সংকল্প নয়। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ব।”
উল্লেখ্য, ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে আনা হয়েছিল ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। কিন্তু শুক্রবার ভোটাভুটির সময় দেখা যায়, বিলের পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিরোধিতায় পড়ে ২৩০টি ভোট। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা না থাকায় বিলটি লোকসভায় খারিজ হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শেষে বিরোধী জোটের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “সংসদে বিল আটকে দিয়ে যে উৎসব আপনারা পালন করছেন, দেশের নারীরা এর যোগ্য জবাব দেবে। মনে করা হচ্ছে, আসন্ন ভোটে মহিলা ভোটারদের সমর্থন পেতেই প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক কৌশল।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
