আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোট। কিন্তু ভোটের ঠিক আগের দিন সকালেও রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের মনে জমাট বেঁধেছে ক্ষোভ আর হতাশা। আজ বুধবার সকালে যে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে আশা ছিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম উঠবে। কিন্তু তালিকা খুলে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ আবেদন এখনও ‘নিষ্পত্তিহীন’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে কালকের ভোটে এই বিপুল সংখ্যক ভোটার আর ভোট দিতে পারছেন না। এরফলে আজ বুধবার সকালে যে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বড়সড় ধাক্কা খেলেন সাধারণ মানুষ।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত বা ফাইনাল তালিকায় দেখা যায়, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নামের পাশে ‘বিবেচনাধীন’ (Under Adjudication) লেখা রয়েছে। এই বিপুল সমস্যার সমাধানে কমিশন ধাপে ধাপে শুনানি শুরু করে এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা নথিপত্র যাচাই করেন। এর ফলে একে একে ১৫টি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল বলে জানান কমিশন।
এত কিছুর পরেও দেখা যায়, সেই ৬০ লক্ষ মানুষের তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম চিরতরে বাদ পড়ে গিয়েছে। এই বাদ পড়া ভোটারদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত হয়েছিল প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে বিশেষ ‘অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল’। ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছিল প্রায় ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার আবেদন। নিয়ম ছিল, ট্রাইব্যুনাল থেকে সবুজ সংকেত পেলেই এই নামগুলো অতিরিক্ত তালিকায় উঠবে এবং তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, যাঁদের এলাকায় ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল যদি আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে আপনার যাবতীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে নতুন করে তালিকায় নাম তুলে দেয়, তবেই আপনি ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে, যাঁদের এলাকায় ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল থেকে নাম তোলার শেষ সময়সীমা হলো ২৭ এপ্রিল। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট দফার ভোটের ঠিক দুই দিন আগে পর্যন্ত যদি ট্রাইব্যুনাল আপনার নাম তালিকায় তোলার অনুমোদন দিয়ে দেয়, তবেই আপনি এই নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
সেই মতে আজ ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ পায়। কিন্তু তালিকা খুলতেই ভোটারদের চক্ষু চড়কগাছ! অনেকেরই নামের পাশে ভেসে উঠছে এক নিস্প্রাণ ইংরেজি বাক্য— “The record does not indicate that any appeal has been disposed of”। অর্থাৎ, আবেদন জমা পড়লেও ট্রাইব্যুনাল তা এখনও নিষ্পত্তি করেনি। এমনকি ট্রাইব্যুনাল থেকে কতজনের নাম তালিকায় উঠেছে, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য যে, এর আগে শীর্ষ আদালতের শুনানিতে জানা গিয়েছিল, প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে গড়ে প্রতিদিন মাত্র ১০টির মতো আবেদনের শুনানি হচ্ছে। এই কচ্ছপ গতির কারণেই আজ কয়েক লক্ষ মানুষের ভাগ্য ফের অনিশ্চয়তার মুখে। কাল সকাল থেকে যখন বুথে বুথে লম্বা লাইন পড়বে, তখন এই ২৭ লক্ষ ভাগ্যহীন ভোটারকে কেবল দর্শক হয়েই থাকতে হবে। না তারা পারবে ভোট দিতে না ভোট কেন্দ্রের আসেপাশে ঘেসতে। মূলত ১৫টি তালিকার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর শেষ ধাপে এসে এই যান্ত্রিক বা বিচারিক জটিলতা কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলো।

