সোমবারই প্রথম দফার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে কমিশন, বাদ যেতে পারে ১০ লক্ষ নাম! রাজ্যজুড়ে হাই অ্যালার্ট

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
4 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার অধীনে বিবেচনাধীন ভোটারদের যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা সোমবার ২৩ মার্চ প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।  মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগামীকাল সন্ধ্যায় এই তালিকা প্রকাশিত হবে।  যাচাই শেষ হওয়া নামগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, আর অযোগ্য প্রমাণ হলে নাম বাদ যাবে

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় (Final Roll) ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম বিবেচনাধীন বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ এ ছিল।  এই নামগুলোর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৭০০ জন জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে, যারা হাই কোর্টের নির্দেশে কাজ করছেন।  এরফলে বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে প্রতিদিন ১-২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে, এবং এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে সূত্রে খবর।  তবে জল্পনা বাড়ছে নাম বাদ পড়া নিয়ে।

পুরোনো রিপোর্ট অনুসারে, যখন নিষ্পত্তি হওয়া নাম ছিল ২৩.৩ লক্ষ, তখন প্রায় ৮ লক্ষ বাদ যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল।  বর্তমানে নিষ্পত্তি হওয়া নাম ২৮ লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তাই বাদ যাওয়া নামের সংখ্যা ৯ থেকে ১০ লক্ষের মধ্যে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এক‌ই কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়‌ও শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, তিনি বলেন “আমি শুনেছি ২২ লক্ষের মধ্যে ১০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।  একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুরের মতো এলাকায়।”

যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা সরাসরি নিশ্চিত করা হয়নি।  CEO-র ঘোষণায় শুধু বলা হয়েছে যে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকা ভোটারদের নাম যাচাই সম্পূর্ণ হলে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত হবে।  তবে এই সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রক্রিয়াটি চলমান থাকবে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগ পর্যন্ত, জানা যায় দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা আগামী শুক্রবার প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।  তারপর প্রতি শুক্রবার ধাপে ধাপে বাকি নামগুলোর সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা আসবে।

কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার বিকেলের মধ্যেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে এই সংশোধিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা পৌঁছে যাবে।  সন্ধ্যা থেকে ভোটারেরা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট মারফত তাঁদের নাম দেখতে পারবেন।  এ ছাড়াও সোমবারই বুথ স্তর থেকে শুরু করে বিডিও, এসডিও এবং ডিএম অফিসগুলিতে এই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হবে।  জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া প্রায় ৪০ হাজার বুথের তালিকা ইতিমধ্যেই কমিশনের হাতে পৌঁছে গিয়েছে।

রাজ্যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও রকম অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য আগেভাগেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।  নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের ২৩টি জেলাকেই ‘হাই অ্যালার্ট’-এ রাখা হয়েছে।  জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি চালানো হয়।

সম্প্রতি শুক্রবার নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যে ২৩ জেলার জন্য মোট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে বিশেষ এই আপিল আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে।  কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা নিয়ে যে কোনও অভিযোগের বিচার করবেন এই অভিজ্ঞ বিচারপতিরাই।  পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে ভোটাররা এই ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন।

এই ট্রাইব্যুনালে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম-সহ মোট ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  কোচবিহার, মালদা মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ও হুগলির মতো জেলাগুলোর জন্য আলাদা আলাদা বিচারপতি নিয়োগ করেছে।

চূড়ান্ত তালিকার পর যদি সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকাতেও আপনার নাম না আসে, তখনই আপনি সরাসরি এই নতুন গঠিত প্রাক্তন বিচারপতিদের ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন।

এদিন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি জানিয়েছে ট্রাইব্যুনালে কিভাবে আবেদন করবেন সে কথাও।  আবেদন করা যাবে দুই ভাবে—
১.অনলাইনে কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে (ECI NET) গিয়ে।


২.অথবা আপনার এলাকার মহকুমা শাসক (SDO) বা জেলাশাসকের (DM) দফতরে গিয়ে ফর্ম জমা দিতে হবে। এবং সেখান থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তা ট্রাইব্যুনাল তথা প্রাক্তন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হবে।
তবে, এই ট্রাইব্যুনালগুলি কেবল চলতি বছরের এস‌আইআর প্রক্রিয়ার সংশোধনের জন্যই কাজ করবে এবং সব বিচারাধীন ভোটারদের আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাইব্যুনালের মেয়াদ শেষ হবে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।