কলকাতা: রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের বিজ্ঞপ্তির ভাষা এবং যৌক্তিকতা নিয়ে নজিরবিহীন উষ্মা প্রকাশ করেন।
এদিন কমিশনের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতির মন্তব্য,
আপনাদের বিজ্ঞপ্তির যা বয়ান, তাতে তো বিচারপতিদেরও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে। আমাদের নিয়োগ করুন, আমরাও ডিউটি করতে যেতে প্রস্তুত।
মামলাকারীদের দাবি ছিল, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কমিশন জানিয়েছিল যে কলেজ অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। কিন্তু ভোটের ঠিক আগে হঠাৎ সেই সিদ্ধান্ত বদলে অনেককে ডিউটির চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার কমিশন নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছে? ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার অনেক আগে থেকে কেন সঠিক পরিকল্পনা করা হলো না, তা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি।
যদিও নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, রাজ্যে পোলিং কর্মীর ঘাটতি থাকার কারণেই এই ‘অনিবার্য’ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে বিচারপতি এই যুক্তি মানতে চাননি। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এভাবে শিক্ষকদের নিয়োগ করা যায় না।
এছাড়াও আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে অধ্যাপকদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা বিস্তারিত জানিয়ে শুক্রবারের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে হবে কমিশনকে। আর কাল সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আদালত পরবর্তী নির্দেশ দেবে বলে জানিয়েছে।

