রাজ্যের সাধারণ ও গরিব মা-বোনদের জন্য অত্যন্ত বড় খবর! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে রাজ্য সরকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র (বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার) পারিবারিক স্তরের তথ্য সংগ্রহের মূল ফর্ম প্রকাশ করেছে। ১২ পাতার এই সুবিস্তৃত আবেদনপত্রটি আসার পর এটি স্পষ্ট যে, এবার থেকে আর শুধু মুখে দাবি করলেই হবে না; প্রতিটি পরিবারের খুঁটিনাটি তথ্য খতিয়ে দেখেই এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে।
পুরোনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের কাঠামোকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে এই নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা আনা এবং ভুয়ো বা জালিয়াতি করে আবেদনকারীদের তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া। আগামী ৩ জুন, ২০২৬ থেকে এই প্রকল্পের যোগ্য মহিলাদের আধার-সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি (DBT প্রক্রিয়ায়) প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে নিয়মের কড়াকড়ির কারণে রাজ্যের প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা এবার বাদ পড়তে চলেছেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আজ এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ১২ পাতার ফর্মে কী কী থাকছে এবং কারা এই টাকা পাবেন বা পাবেন না সম্পূর্ণ বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকারি টাকা যাতে কোনো ভুল হাতে না যায়, তার জন্য এবার যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়ম বেশ কড়া করা হয়েছে।
১২ পাতার ফর্মে কী কী তথ্য দিতে হবে
১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্মের প্রতিটি বিভাগ পূরণ করা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীরা অনলাইন এবং অফলাইন দুই মাধ্যমেই ফর্মটি পূরণ করতে পারবেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এটি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হিন্দিতেও পাওয়া যাবে।
এই ১২ পেজের ফর্মটি পূরণ করার জন্য আপনার পরিবারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হবে। প্রথমে পরিবারের প্রধানের (HOF) নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, ডিজিটাল রেশন কার্ডের আইডি এবং পরিবারে মোট কতজন সদস্য আছেন তা লিখতে হবে। এছাড়া পরিবারের সকল সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর ও অংশ নম্বরও দিতে হবে। টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার জন্য পরিবারের প্রধানসহ সব প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের আধার লিঙ্ক করা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং IFSC কোড দিতে হবে।
ফর্মে আরও জানতে চাওয়া হয়েছে— আপনার বাড়িতে ৩টি বা তার বেশি পাকা ঘর আছে কি না, পরিবারের মোট জমির পরিমাণ কত (জমির দলিল বা রেকর্ডের কপি সহ), কারো চার চাকার গাড়ি আছে কি না, সদস্যদের স্বাস্থ্যবিমার বিস্তারিত তথ্য, পরিবারের বার্ষিক আয় কত, কোনো সদস্য আয়কর বা জিএসটি-র অধীনে নথিভুক্ত কি না এবং সকল সদস্য কী ধরনের কাজ করে (কর্মসংস্থানের ধরন)।
এছাড়া পরিবারের স্কুলে পড়া শিশুদের নাম, তাদের শ্রেণি এবং তাদের সম্পূর্ণ টিকাকরণ (ইমিউনাইজেশন) হয়েছে কি না সেই তথ্যসহ টিকাকরণ কার্ডের আইডিও দিতে হবে। সবকিছু সঠিকভাবে ও সতর্কতার সাথে পূরণ করলে ফর্মটি সহজেই জমা দেওয়া যাবে।
কারা পাবেন না–
1. আবেদনকারী মহিলার বয়স যদি ২৫ বছরের কম বা ৬০ বছরের বেশি হয়।
2. তিনি যদি কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, পঞ্চায়েত, পৌরসভা কিংবা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো পদে কর্মরত থাকেন বা নিয়মিত বেতন/পেনশন পান।
3. পরিবারের কোনো সদস্য যদি নিয়মিত আয়কর (Income Tax) প্রদান করেন।
কারা পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা?
1. রাজ্যের সাধারণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া প্রকৃত ভারতীয় নারীরাই এই সুবিধা পাবেন।
2. ভোটার তালিকা থেকে নাম সাময়িকভাবে বাদ গেলেও যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন কিংবা সিএএ (CAA)-র অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে রেখেছেন, তাঁরাও আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আপাতত এই আর্থিক সহায়তা পাবেন।
পুরোনো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রাপকদেরও কি নতুন ফর্ম পূরণ করতে হবে?
হ্যাঁ, আগে টাকা পেয়ে থাকলেও প্রতিটি পরিবারকে বাধ্যতামূলকভাবে এই নতুন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
রাজ্য সরকার প্রতিটি পরিবারের একটি নিখুঁত এবং ডিজিটাল ‘পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার’ (Family Database) তৈরি করতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে সরকারের যেকোনো জনকল্যাণমূলক সুবিধা সরাসরি ও দ্রুত আপনার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
কতদিন পর্যন্ত চলবে আবেদনের সময়
আগামী ১ জুন থেকে টানা ৯০ দিন (৩ মাস) ধরে এই ফর্ম পূরণ ও যাচাইয়ের কাজ চলবে। তবে চিন্তার কারণ নেই যতদিন না এই যাচাই পর্ব শেষ হচ্ছে, ততদিন পুরোনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়া চালু থাকবে। ২ জুনের মধ্যে যাঁরা নতুন করে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন, তাঁরা ৩ জুন থেকেই ৩,০০০ টাকা করে পাওয়া শুরু করবেন এবং নতুন তালিকায় নাম ওঠার সাথে সাথেই পুরোনো সুবিধাটি বন্ধ হয়ে যাবে।
আগামী ১ জুন থেকে টানা ৯০ দিন অর্থাৎ ৩ মাস ধরে এই ফর্ম পূরণ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সচল থাকবে। তবে যতদিন না এই যাচাই পর্ব শেষ হচ্ছে, ততদিন পুরোনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়া চালু থাকবে। ২ জুনের মধ্যে যাঁরা সফলভাবে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন, তাঁরা ৩ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন হারে টাকা পাওয়া শুরু করবেন এবং নতুন তালিকায় নাম ওঠার সাথে সাথেই পুরোনো প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর গ্রামীণ এলাকার জন্য ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) এবং শহরের জন্য সাব-ডিভিশনাল অফিসার (SDO) উপযুক্ত আবেদনকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জেলা শাসকের (DM) নিকট পাঠাবেন। কলকাতা পৌর এলাকার ক্ষেত্রে এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন পুরসভার পদস্থ আধিকারিক ও কমিশনার। অনুমোদিত সেই তালিকা পরবর্তীতে অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টালে আপলোড করা হবে। সমগ্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতি সপ্তাহে কতজন নতুন উপভোক্তার নাম এই যোজনায় নথিভুক্ত হলো, তা নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করে দেশবাসীকে জানিয়ে দেবেন রাজ্য সরকারের মহিলা ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
অন্নপূর্ণা যোজনা বাংলা ফর্ম PDF Download লিংক- ডাউনলোড করুন
Annapurna Bhandar Form PDF Download (English): Download Now
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
