সংখ্যালঘুদের সাথে ১৫ বছর ধরে প্রতারণা হয়েছে,ওবিসি বিল নিয়ে বিধানসভায় বিস্ফোরক সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর

Ealiash Rahaman
By
Ealiash Rahaman
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।
3 Min Read
WhatsApp_Group
সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করুন

সদ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া ওবিসি (OBC) সংশোধনী বিল নিয়ে এবার শাসক ও বিরোধী পক্ষের দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনীতি।  গত ২৯ জুন ২০২৬ (সোমবার) বিধানসভায় অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ দুটি সংশোধনী বিল পেশ করলে, তার তীব্র বিরোধিতা করে সোচ্চার হন ডোমকলের সিপিআই(এম) (CPI-M) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান।  বিধানসভার ভেতরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছর ধরে ওবিসি সংরক্ষণকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের সাথে চরম প্রতারণা করা হয়েছে।

Join WhatsApp Channel Join Now
Telegram Group Join Now

বিলটির ধারাভিত্তিক সমালোচনা করে মোস্তাফিজুর রহমান স্পষ্ট জানান, ওবিসি সংরক্ষণ সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য হওয়া উচিত, কোনো দলের ভোটব্যাংক তৈরির হাতিয়ার নয়।  তিনি বলেন, “বিগত সরকারগুলি ওবিসি তালিকাকে যেভাবে ব্যবহার করেছে, তাতে সংখ্যালঘুরা প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।  নতুন বিলের মাধ্যমে রাজ্য সরকার যেন অনগ্রসর ও সংখ্যালঘুদের সঠিক বিচার দেয় এবং এই বিলের উদ্দেশ্য যেন সম্পূর্ণ সৎ হয়।”

বক্তব্যের মাঝেই মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমান বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করে দেন।  তিনি মনে করিয়ে দেন, পূর্ববর্তী ওবিসি তালিকার জেরে বিগত বছরগুলিতে রাজ্যের বহু সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর যুবক-যুবতী সরকারি চাকরি পেয়েছেন এবং বর্তমানে কর্মরত আছেন।  এই নতুন সংশোধনী বিলের আইনি জটিলতার কারণে সেই সমস্ত কর্মরত চাকরিজীবীরা যাতে কোনোভাবেই হেনস্থা বা কর্মহীনতার মতো সমস্যার সম্মুখীন না হন, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিন বিধানসভায় বিরোধীদের তুমুল হট্টগোল ও আপত্তির মাঝেই শেষ পর্যন্ত ধ্বনিভোটে বিল দুটি পাস হয়ে যায়। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ১৮৬টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে মাত্র ১৭টি ভোট।  বাম ও আইএসএফ বিধায়করা বিলের বিপক্ষে ভোট দিলেও তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ ভোটাভুটির ঠিক আগে কক্ষত্যাগ (Walkout) করে।

এদিনের অধিবেশনে ওবিসি বিলের বিরোধিতায় সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের সুরেই সুর মেলান ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও।  নওশাদ দাবি করেন, বিজ্ঞানের ভিত্তিতে সঠিক সমীক্ষা না করে এই বিল পাস করায় ওবিসি যুবসমাজ উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং সমাজে জাতিগত বৈষম্য বাড়বে।  দুই সংখ্যালঘু বিধায়কের এই যৌথ আক্রমণে বিধানসভার অন্দরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়।  যদিও সমস্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ জানান, কলকাতা হাইকোর্টের ওবিসি সংক্রান্ত রায়কে সম্মান জানিয়ে এবং আইনি জটিলতা কাটাতেই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে এই সংশোধনী বিল দুটি আনা হয়েছে।

Share This Article
বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে ডিজিটাল মিডিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত। দেশ ও বিদেশের সমস্ত রকম খবরাখবর রাখতে ও তা প্রতিবেদন আকারে লিখতে অভ্যস্থ।