আগামীকাল ২৩শে এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট শুরু হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটার তালিকা। প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া বা ভোটার হওয়া নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশে হওয়া দ্রুত শুনানির পর দেখা গেল, এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে মাত্র ১৩৯ জন নতুন করে কাল ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
কমিশন সূত্রে খবর, ভোটারদের সুবিধার্থে গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেছে এই ট্রাইব্যুনাল। যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের মধ্যে কাদের নাম তালিকায় ফিরল, বুধবার নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নং ১ (অতিরিক্ত তালিকা) কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ, যাঁদের নাম এই বিশেষ তালিকায় উঠেছে, তাঁরাও আগামীকাল বুথে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছিল প্রায় ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার আবেদন। যাতে তাঁদের নাম তালিকায় ফেরানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই আবেদনগুলো খতিয়ে দেখতে বিশেষ ‘ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়েছিল। সময় খুব কম থাকায় সব আবেদন বিচার করা সম্ভব না হলেও, প্রায় ৬৫০টি মামলার কাজ শুরু হয়েছিল। তার মধ্যে ১৩৯ জনের নাম চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এই ১৩৯ জন নাগরিকই আগামীকাল বুথে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মানুষ নাম ফিরে পেয়েছেন মালদহ জেলা থেকে (৩৯ জন)। এর পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ (২৯ জন), পুরুলিয়া (২০ জন) এবং উত্তর দিনাজপুর (১৯ জন)। এছাড়া কোচবিহারের ১১ জন, বাঁকুড়ার ৭ জন, বীরভূমের ৩ জন, পূর্ব মেদিনীপুরের ২ জন এবং পশ্চিম বর্ধমানের ১ জন কালকের প্রথম দফার ভোটে ভোটাধিকার পেয়েছেন।
এই ১৩৯ জন ভোটার যুক্ত হওয়ার ফলে প্রথম দফার নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩১০ জন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অনেক আবেদনকারী এমনও ছিলেন যাঁদের নাম আসলে মূল তালিকাতেই উঠে গিয়েছিল, কিন্তু দুশ্চিন্তার কারণে তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন। এবিষয়ে এদিন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, এই ভোটারদের নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তাঁদের নাম আগে থেকেই তালিকায় বর্তমান রয়েছে, তাই বুথে গিয়ে ভোট দিতে তাঁদের কোনো সমস্যা হবে না।
তবে ২৭ লক্ষ মানুষের মধ্যে মাত্র ১৩৯ জনের নাম ফেরায় সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে আক্ষেপ থেকেই গেল। বাকিদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা জানতে পারবে বিকেলের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টে।

