শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন মাটিগাড়া ও বাগডোগরা এলাকায় গরু পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ ঘটনা ঘটল। অভিযোগ, গরু চুরির সন্দেহে কয়েক জনকে ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ব্যাপক মারধর করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গণপিটুনির ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিন জন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোররাত আড়াইটে থেকে তিনটে নাগাদ একটি পিকআপ গাড়ি নিয়ে ছয় জনের একটি দল মাটিগাড়ার তারাবাড়ি এলাকায় পৌঁছয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁদের গরু চুরি বা পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করেন। এরপরই ওই ব্যক্তিদের ঘিরে ধরে মারধর শুরু হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, প্রথমে তারাবাড়ি এলাকাতেই একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গাড়ির চালক মহম্মদ শাহিদ আখতারকে ব্যাপক মারধর করা হয়। বড় পাথর দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। শাহিদ আখতার উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা ছিলেন।
এর পর ছোট একটি চারচাকা গাড়িতে থাকা কয়েক জন সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। স্থানীয়দের একাংশ তাঁদের ধাওয়া করে বাগডোগরার ধেমাল এলাকার দিকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেখানেও তাঁদের উপর হামলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিন জনকে পুলিশ উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মধ্যে শাহ মহম্মদের মৃত্যু হয়। তিনি হরিয়ানার বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত দুই ব্যক্তি হলেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা মহম্মদ শাহিদ আখতার এবং হরিয়ানার বাসিন্দা শাহ মহম্মদ। আহতদের মধ্যে আমির সাত্তার, আকরাম খান এবং আরিফ খান রয়েছেন। তাঁরাও হরিয়ানার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মাটিগাড়া ও বাগডোগরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশের তৎপরতায় এক জন থানায় আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন বলেও জানা গিয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ।
শিলিগুড়ি কমিশনারেটের এসিপি (পশ্চিম) অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত মাটিগাড়ার তারাবাড়ি এলাকায়। সেখান থেকে ঘটনাটি বাগডোগরা ও পানিঘাটা থানা এলাকার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর কথায়, তারাবাড়ি এলাকায় এক জনের মৃত্যু হয় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নিহত বা আহত ব্যক্তিরা সত্যিই গরু চুরি বা পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি, কেন এবং কীভাবে স্থানীয়দের একাংশ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলা চালালেন, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গণপিটুনি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগে চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় আরও কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রেজা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরেই রাতে গবাদি পশু পাচারের অভিযোগ উঠছিল। সেই অভিযোগের জেরেই শনিবার ভোররাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে মারধর বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ পদক্ষেপ শুরু করেছে।
ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু এবং আরও কয়েক জনের আহত হওয়ার পর মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। একই সঙ্গে গণপিটুনির ঘটনায় জড়িত বাকিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
