রাজ্যের এসআইআর-এ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে যখন একের পর এক প্রশ্ন উঠছে, তখন নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। ৬ অক্টোবরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসআইআর ২০২৬ এর এএসডিডি তালিকায় থাকা যোগ্য ভোটারেরা ফের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ জমা দিতে পারবেন। অনলাইনে অথবা সরাসরি ব্লক লেভেল অফিসার বা বিএলও-র মাধ্যমে এই আবেদন করা যাবে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এসআইআর ২০২৬-এ যে সমস্ত ভোটারকে অ্যাবসেন্টি, শিফটেড, ডেড বা ডিলিটেড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের তালিকা এএসডিডি তালিকা নামে প্রকাশ করা হয়েছে। কোনও যোগ্য ভোটারের নাম এই তালিকায় থাকলে তিনি নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ জমা দিতে পারবেন। অর্থাৎ, এসআইআর-এর সময় কোনও ভোটারকে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত, অন্যত্র স্থানান্তরিত বা মৃত হিসেবে চিহ্নিত করে নাম বাদ দেওয়া হলেও বাস্তবে তিনি জীবিত, যোগ্য এবং ভোটার হিসেবে নাম রাখার অধিকারী হলে এই প্রক্রিয়ায় আবেদন করার সুযোগ থাকছে।
এই এএসডিডি তালিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের ওয়েবসাইটেও তালিকাটি দেখা যাবে। ফলে যাঁদের নাম এসআইআর এর পর ভোটার তালিকায় আর দেখা যাচ্ছে না, তাঁরা প্রথমে নিজেদের নাম এএসডিডি তালিকায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন। তালিকায় নাম থাকলে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার মাধ্যমে ফের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে।
আবেদন করার ক্ষেত্রে অনলাইন এবং অফলাইন দুই ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। যোগ্য ভোটারেরা অনলাইনে ফর্ম ৬ জমা দিতে পারবেন। আবার চাইলে সরাসরি বিএলও-র কাছেও ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন করতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
শুধু এসআইআরে নাম বাদ পড়া পুরনো ভোটারদের জন্যই এই সুযোগ নয়। ১৮ বছর বয়সে পৌঁছে যাওয়া নতুন বা প্রথমবারের যোগ্য ভোটারেরাও ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ জমা দিতে পারবেন। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে সমস্ত তরুণ-তরুণী ভোটার হওয়ার যোগ্য বয়সে পৌঁছেছেন, তাঁরাও অনলাইনে অথবা বিএলও-র মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
তবে এসআইআরে নাম বাদ পড়া সমস্ত ভোটারকে একই শ্রেণিতে রেখে দেখলে বিষয়টি ভুল বোঝার সম্ভাবনা রয়েছে। কমিশনের ৬ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার সুযোগটি নির্দিষ্টভাবে এএসডিডি তালিকায় থাকা যোগ্য ভোটারদের জন্য বলা হয়েছে। অর্থাৎ, যাঁদের নাম অ্যাবসেন্টি, শিফটেড, ডেড বা ডিলিটেড হিসেবে এএসডিডি তালিকায় রয়েছে এবং তাঁরা ভোটার হিসেবে এখনও যোগ্য, তাঁদের জন্য এই আবেদন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য।
অন্যদিকে, এসআইআরের সময় লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির কারণে যাঁদের নাম যাচাইয়ের আওতায় এসেছিল এবং পরবর্তী সময়ে যাঁদের নাম বাদ পরে বা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে যায় তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ৬ অক্টোবরের এই বিজ্ঞপ্তিতে ফর্ম ৬ এর মাধ্যমে নতুন করে নাম তোলার সুযোগের কথা বলা হয়নি।
বিশেষ করে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকা ভোটারদের বিষয়টি এএসডিডি তালিকায় থাকা ভোটারদের থেকে আলাদা। তাঁদের নাম নিয়ে পৃথক যাচাই বা বিচারাধীন প্রক্রিয়া চলতে পারে। ৬ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে সেই প্রক্রিয়া বাতিল করে তাঁদের নতুন করে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে কারও নাম লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি বা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকলে, শুধুমাত্র এই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে তাঁকে এএসডিডি তালিকার ভোটার হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।
এখানে কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার জন্য কোনও নির্দিষ্ট শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। তাই বর্তমানে বিজ্ঞপ্তিতে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে যোগ্য ভোটারেরা এএসডিডি তালিকায় নিজেদের নাম পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারবেন।
অর্থাৎ, এসআইআরের পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে এমন কোনও ব্যক্তি যদি দেখতে পান যে তাঁর নাম এএসডিডি তালিকায় রয়েছে এবং তিনি এখনও ভোটার হিসেবে যোগ্য, তাহলে তাঁর জন্য ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে ফের নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। আর যাঁরা নতুন করে ১৮ বছর বয়সে পৌঁছে ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছেন, তাঁরাও একইভাবে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। তবে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি, আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন বা ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত অবস্থায় থাকা ভোটারদের বিষয়ে এই বিজ্ঞপ্তি আলাদা করে ফর্ম ৬-এর সুযোগ ঘোষণা করেনি।

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
