প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই দলের একাধিক নেতাকে আটক করল পুলিশ। শনিবার সকালে মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমানবন্দরেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, দলের নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। যন্তর মন্তরে নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। আন্দোলন শুরুর আগেই দলের শীর্ষ নেতাদের আটক করার ঘটনায় রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
শনিবার সকাল প্রায় ১০টা ১৯ মিনিটে তাঁদের বহনকারী বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান অবতরণের পর পুলিশকর্মীরা বিমানের ভিতরে পৌঁছে তিন নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় বিমানের অন্য যাত্রীদেরও দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিন নেতাকে ঠিক কোন আইনে এবং কী কারণে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁদের আটকের পর কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। দলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে এবং দেশে ভোট চুরির ঘটনা ঘটছে। এই অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই রাজধানীতে জমায়েতের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভের অনুমতি, আন্দোলনকারীদের যাতায়াত এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে জমায়েত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্দোলনে যোগ দিতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পরিকল্পনা করেছিলেন সিজেপির নেতা ও সমর্থকেরা।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়ের মধ্যেই জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠীকেও আটক করা হয়েছে। শনিবার সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-তে তাঁর বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁরও।
ধ্রুব রাঠীকে দিল্লিতে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, ঠিক কোন নির্দেশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আটকের আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ধ্রুব রাঠী দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবহণ পরিষেবায় বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিক্ষোভের আগে একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, ট্রেন বাতিল করা এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সিজেপি নেতাদের দাবি, দলের আইনি বিষয়গুলি দেখভালের দায়িত্বে থাকা আইনজীবী রত্না সিংহকেও শনিবার সকালে আটক করা হয়েছে। আইনজীবীদের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দিল্লিতে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে চার শতাধিক থেকে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করার দাবি সামনে এসেছে। তবে মোট কতজনকে আটক করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কতজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, দেশের পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এবং আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই পরিস্থিতির পিছনে রয়েছেন। সিজেপির আন্দোলনকারীদের উদ্দেশেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
বিজেপির এই বক্তব্যের পাল্টা, আন্দোলনকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড়। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলির জবাব দিতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, আটক বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, দিল্লির সীমান্ত এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, মেট্রো পরিষেবা এবং রেল চলাচলেও বিধিনিষেধের খবর সামনে এসেছে।
রাজধানীতে বিক্ষোভ ঘিরে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ শুরুর আগেই দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ একাধিক নেতা এবং ধ্রুব রাঠীর আটকের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আটক নেতাদের কোথায় রাখা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
