জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU) যৌন হেনস্থার অভিযোগে বড় পদক্ষেপ করল কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অঙ্গোমচা বিমল আকোইজামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর জারি করা নির্দেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ তদন্তকারী কমিটির তদন্ত এবং তার সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে। বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, অঙ্গোমচা বিমল আকোইজাম জেএনইউয়ের স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধীন সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব সোশ্যাল সিস্টেমসের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল কমিটি (IC)। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুড়ি পণ্ডিতের স্বাক্ষরিত নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের শ্রেণিবিন্যাস, নিয়ন্ত্রণ ও আপিল সংক্রান্ত বিধির ১১(ix) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিষেবা সংক্রান্ত বিধি মেনেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নির্দেশে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে একাধিক পড়ুয়ার যৌন হেনস্থার অভিযোগ সামনে এসেছিল। জানা গেছে, অন্তত ১০ জন পড়ুয়া তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অভিযোগগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির কাছে জমা পড়ে। প্রায় এক মাস আগে অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছিল।
অভিযোগকারীদের কয়েকজনের দাবি ছিল, অধ্যাপক তাঁদের নিজের বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা জমায়েতে আমন্ত্রণ জানাতেন। সেখানে অশালীন আচরণ এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তার অভিযোগ ওঠে। এমনকী, ক্লাস চলাকালীনও তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করতেন বলে কয়েকটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজন সিনিয়র পড়ুয়া একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামনে এসেছেন বলে জানা গেছে।
তখন বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটি তদন্ত চালাচ্ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে বর্তমান পড়ুয়াদের পাশাপাশি প্রাক্তন পড়ুয়াদের সঙ্গেও কথা বলার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছিল। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে কমিটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সেই সময় পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের কাছে এই ঘটনায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছিলেন এক ডেপুটি কমিশনার। তবে ৯ অক্টোবরের বরখাস্তের নির্দেশের পর পুলিশের কাছে নতুন করে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ নির্দেশে জানানো হয়েছে, ইন্টারনাল কমিটির সুপারিশ বিবেচনা করে অধ্যাপককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে এত দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তের আওতায় থাকা এই ঘটনায় এবার বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল জেএনইউ কর্তৃপক্ষ।

প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
