দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। রবিবার, ১১ অক্টোবর দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের পেশ করা হয়। এরপর তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেয় আদালত। তবে আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখা এবং শান্তিভঙ্গের মতো কোনও ঘটনায় জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁদের ছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে লাইভল।
গত শনিবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি পৌঁছেছিলেন CJP-র তিন নেতা। কিন্তু দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরই তাঁদের আটক করে পুলিশ। অভিযোগ, বিমান থেকে নামার পরেই তাঁদের আটক করা হয় এবং শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রবিবার তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
CJP-র আইন বিভাগের প্রধান রত্না সিং জানিয়েছেন, তিন নেতাকেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আইনজীবী সৌতিক বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এখন মুক্ত এবং তাঁরা সেখান থেকে চলে যেতে পারবেন। তাঁদের মুক্তির বিষয়টি সামনে আসার পর দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ এবং প্রতিরোধমূলক আটকের আইনি ভিত্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, তিন নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ এবং ১৭০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই ধারাগুলি মূলত শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং কোনও আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়া আটকানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রেফতারের ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ নম্বর ধারায় কোনও ব্যক্তির কারণে শান্তিভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। এই ব্যবস্থার মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, ১৭০ নম্বর ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনও আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়া আটকাতে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে। এই ধারায় আটক রাখার ক্ষেত্রে আইন নির্ধারিত সময়সীমা ও শর্ত মানতে হয়।
তবে এই ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছে বলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমনটা নয়। প্রতিরোধমূলক আটক ও অপরাধের বিচার এক বিষয় নয়। এই ক্ষেত্রে তিন নেতাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করার পর মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার সকালে গুরুগ্রামে তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। তবে তাঁর মুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাঁকে দিল্লির যন্তর মন্তরের আশপাশে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এই শর্ত লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ধ্রুব রাঠির আটক ও মুক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করেও প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, সাংবাদিক এবং অন্যান্য ব্যক্তিকে আটক করার ঘটনা সামনে আসায় নাগরিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ওই দিন রাজধানীজুড়ে প্রায় ২,৫০০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এর পাশাপাশি, বিক্ষোভের আগের রাতে প্রতিরোধমূলক অভিযানে আরও প্রায় ১,০০০ জনকে আটক করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই পর্যায়ে প্রায় ৩,৫০০ জনকে আটকের ঘটনা সামনে এসেছে।
এদিকে, CJP-র আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংয়ের একটি আবেদন শনিবার দিল্লির আদালত খারিজ করে দেয়। পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনি আটকের অভিযোগে এফআইআর দায়ের এবং তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে ওই আবেদন করা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, দিল্লিতে CJP-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করার ঘটনা এবং তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা মুক্তি পেলেও তাঁদের আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ধ্রুব রাঠির মুক্তির ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিক্ষোভের দিন রাজধানীজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় এবং গণপরিবহণ পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
প্রিমিয়াম PVC কার্ড অর্ডার করুন
ওয়াটারপ্রুফ • টেকসই • ফাস্ট ডেলিভারি
💬 WhatsApp এ ক্লিক করুন
